12.2 C
London
June 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য–ফ্রান্স ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ছোট নৌকা পাইলট প্রকল্প অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হলো

ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ “ওয়ান ইন, ওয়ান আউট” পাইলট প্রকল্প আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের হোম অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন এটি আরও কয়েক মাস চালু থাকবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত বছরের জুলাই মাসে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশ একে “গ্রাউন্ডব্রেকিং” বা যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিলেও বাস্তবে এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় প্রবেশ করা একজন আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। বিনিময়ে ফ্রান্সে থাকা একজন আশ্রয়প্রার্থী, যিনি অবৈধভাবে চ্যানেল পার হওয়ার চেষ্টা করেননি, তাকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়।

শুরুতে এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে চালু করা হয়, যার মেয়াদ ছিল ১১ জুন পর্যন্ত। তবে হোম অফিস জানিয়েছে, উভয় দেশ সম্মত হয়ে এখন এটি ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য মানব পাচার চক্র দমন এবং ছোট নৌকায় অবৈধ পারাপার কমানো। কিন্তু চুক্তির পরও হাজার হাজার মানুষ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে পাচারকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে বেলজিয়াম থেকে নতুন রুট ব্যবহার করছে এবং লরি ব্যবহার করে আরও ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে মানুষ পাচার করছে।

তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় চ্যানেল পারাপার গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি—বিশেষ করে ঝড়ো বাতাস—অনেক সময় পারাপারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ৬০৫ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ৫৮১ জনকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে।

এদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। ফেরত পাঠানো এক ব্যক্তি জানান, এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং এটি অভিবাসন প্রবাহ বন্ধ করবে না, কারণ ছোট নৌকা এখনও চলছেই।

আরেকজন আশ্রয়প্রার্থী বলেন, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অনেক মানুষ নিখোঁজ হয়ে গেছে এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তিনি আরও দাবি করেন, অনেকেই বুলগেরিয়ায় আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, কারণ সেখানে শরণার্থীদের প্রতি আচরণ ভালো নয়।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, ফ্রান্সের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এটি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানোর বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ, যা আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসনের প্রতি আকর্ষণ কমানো এবং যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই তাদের দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউক্রেনে পুতিন যুদ্ধাপরাধ করেছেন: বরিস জনসন

ব্যারনেস ওয়ার্সি’র হাউস অব লর্ডস থেকে পদত্যাগ

লন্ডনে রিকশা নিয়ন্ত্রণে কড়া আইনঃ অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চস্বরে গান নিষিদ্ধ