TV3 BANGLA
মুক্তমতযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাষ্ট্র চীন দ্বৈরথের বাইরে নতুন শক্তি: বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অগ্রযাত্রা

নাশীত রহমান || লন্ডন || ২২ জুলাই ২০২৬

 

অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; গত এক দশকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারাবাহিক অস্থিরতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই একটি চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন – যুক্তরাজ্যে একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে, যা দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, নীতি নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের একটি উপশাখা হিসেবে দেখা হলেও নতুন সরকার এটিকে আর কোনো প্রযুক্তিগত সাইলোতে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI কে সরাসরি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় স্তরে নিয়ে এসেছে। এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই স্পষ্ট যে যুক্তরাজ্য ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, শিল্পনীতি, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI কে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জাতীয় কৌশলের কেন্দ্রে স্থাপন করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI আর কেবল প্রযুক্তি নয়; এটি এখন যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি কৌশলগত ক্ষেত্র। এই ঘোষণার পরই তিনি কানিষ্ক নারায়ণ MP কে নতুন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে নিয়োগ দেন। নারায়ণ এর আগে AI এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং প্রযুক্তি নীতি ও ডিজিটাল রেগুলেশন নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন মন্ত্রণালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

 

এই পরিবর্তন এসেছে একটি বৃহৎ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে। পূর্বের Department for Science, Innovation and Technology – DSIT বাতিল করে তার কার্যক্রম নতুন সুপার ডিপার্টমেন্ট Department for Business, Innovation, Science and Trade – DBIST এ যুক্ত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI এর নিরাপত্তা, অনলাইন সেফটি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো নতুনভাবে বিভিন্ন বিভাগে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI কে আর কোনো সাইলো বিভাগে রাখা হয়নি; বরং সরাসরি ক্যাবিনেট টেবিলে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে।
কানিষ্ক নারায়ণ এর আগে AI এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন, প্রযুক্তি নীতি এবং ডিজিটাল রেগুলেশন নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক কাজের জন্যই তাঁকে এই নতুন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI এখন যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক প্রশ্ন। তাঁর এই মন্তব্যই ইঙ্গিত দেয় যে নতুন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI কে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।
গত দুই বছরে যুক্তরাজ্য যে বিনিয়োগগুলো করেছে—£৫০০ মিলিয়ন Sovereign AI Fund, £১.১ বিলিয়ন AI Hardware Plan এবং দেশীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিগুলোকে শক্তিশালী করার Sovereign AI Strategy—তা শুধু আর্থিক প্রতিশ্রুতি নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এই বিনিয়োগগুলো দেখায় যে যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব ধরে রাখতে চায় এবং AI কে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 

Sovereign AI Fund মূলত দেশীয় AI স্টার্টআপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজি সহায়তা দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। অন্যদিকে £১.১ বিলিয়ন AI Hardware Plan যুক্তরাজ্যের নিজস্ব কম্পিউটিং ক্ষমতা—বিশেষ করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন GPU, ডেটা সেন্টার এবং মডেল ট্রেনিং অবকাঠামো—গড়ে তোলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ফলে দেশটি বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব AI ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে। Sovereign AI Strategy র লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। এটি শুধু বিনিয়োগ নয়; বরং গবেষণা, নৈতিকতা, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, শিল্পনীতি এবং প্রতিভা উন্নয়নকে একত্রে নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় AI কাঠামো তৈরি করছে। এই কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য AI কে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং উৎপাদনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুততরভাবে প্রয়োগ করতে চায়।
এই রাষ্ট্রনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করেছে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিশ্বমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI কোম্পানিগুলো। DeepMind দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক AI গবেষণার শীর্ষে রয়েছে এবং তাদের অগ্রগামী কাজ যুক্তরাজ্যের গবেষণা পরিবেশকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। Wayve স্বয়ংচালিত যানবাহনের জন্য AI চালিত মডেল তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে। ElevenLabs কণ্ঠস্বর ভিত্তিক জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI এ বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। এই কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি যুক্তরাজ্যের AI ইকোসিস্টেমকে শুধু শক্তিশালীই করেনি, বরং দেশটিকে ইউরোপের AI নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বহু বছর ধরে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের দুই প্রধান শক্তি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় AI কোম্পানি, গবেষণা ল্যাব, সুপারকম্পিউটিং অবকাঠামো এবং বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ—সবকিছুই মূলত এই দুই দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে বৈশ্বিক AI প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে “দুই পরাশক্তির খেলা” হিসেবে পরিচিত ছিল। এই বাস্তবতার মধ্যেই যুক্তরাজ্য এখন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে তারা AI বিশ্বের “বিগ ব্রাদার্স ক্লাব”—অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমপর্যায়ের নেতৃত্বের বৃত্তে যোগ দিতে চায়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি তাদের বিশাল প্রযুক্তি কোম্পানি—Google, OpenAI, Meta, Microsoft—এবং তাদের অগ্রগামী গবেষণা ল্যাব। চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ, বিশাল ডেটা ইকোসিস্টেম এবং Baidu, Alibaba, Tencent এর মতো কোম্পানির গুলো। যুক্তরাজ্য এই দুই মডেলের মাঝামাঝি একটি পথ বেছে নিচ্ছে—উদ্ভাবন নির্ভর, গবেষণা কেন্দ্রিক এবং নীতি নির্ভর নেতৃত্ব। DeepMind এর মতো বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যকে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক AI গবেষণার মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থান দিয়েছে। Wayve স্বয়ংচালিত যানবাহনের জন্য AI চালিত মডেল তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে। ElevenLabs কণ্ঠস্বর ভিত্তিক জেনারেটিভ AI এ বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। এই কোম্পানিগুলো যুক্তরাজ্যের AI ইকোসিস্টেমকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য স্পষ্ট—তারা আর শুধু ইউরোপের AI নেতা হতে চায় না; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সমপর্যায়ে দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক AI ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নিতে চায়। নতুন AI মন্ত্রণালয় সেই যাত্রার প্রথম বড় পদক্ষেপ। যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করা, অর্থনৈতিক রূপান্তরকে দ্রুততর করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI নির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোকে সুসংহত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা AI এখন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রতিরক্ষা, উৎপাদনশীলতা—সবক্ষেত্রেই রূপান্তরের প্রধান চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের নতুন AI মন্ত্রণালয় শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এটি দেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এই মন্ত্রণালয় কীভাবে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে বদলে দিতে পারে, তা কয়েকটি মূল দিক থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

প্রথমত, AI কে ক্যাবিনেট লেভেল মর্যাদা দেওয়া যুক্তরাজ্যকে ইউরোপে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপনকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যেখানে AI কে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রেখেছে, সেখানে যুক্তরাজ্য প্রথমবারের মতো AI কে সরাসরি মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে দেখিয়েছে যে তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাজ্যের নীতি দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
দ্বিতীয়ত, নতুন মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের AI গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও সুসংহত করবে। DeepMind, Wayve, ElevenLabs এর মতো বিশ্বমানের কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যকে AI গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন সরকারী পর্যায়ে AI কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে এই কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে, নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে যুক্তরাজ্য ইউরোপের AI নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে।
তৃতীয়ত, Sovereign AI Fund, AI Hardware Plan এবং Sovereign AI Strategy র মতো বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যকে প্রযুক্তিগতভাবে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করবে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো, GPU নির্ভর মডেল ট্রেনিং এবং দেশীয় AI স্টার্টআপগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক AI বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করবে। বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভরতা কমলে দেশটি আরও স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণ করতে পারবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

চতুর্থত, নতুন AI মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক অবস্থানকেও বদলে দিতে পারে। AI এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাজ্য যদি AI নির্ভর নীতি ও নিয়ন্ত্রণে নেতৃত্ব দিতে পারে, তবে তারা আন্তর্জাতিক AI নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে উঠে আসবে। এটি তাদের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়াবে।
সবশেষে, এই মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে AI নির্ভর অর্থনীতি যুক্তরাজ্যকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে দেশটি শুধু ইউরোপেই নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন AI মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার ক্ষমতা রাখে। এটি দেখায় যে দেশটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত এবং AI কে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রেখে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই নতুন মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রনীতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এটি দেখাচ্ছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; বরং বর্তমানের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের অন্যান্য দেশ এখন যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ এটি প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রনীতির একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে গিয়ে রিফিউজ করছে হোমঅফিস

রিফর্ম ইউকে’র বাংলাদেশি প্রার্থীকে ঘিরে তীব্র সমালোচনাঃ ‘বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্যের নিন্দা দলের নেতার

বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী হামলায় আতঙ্কঃ ঘরবন্দি ৩ হাজার বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক