মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে “সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান” নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর হুমকি ও হামলা স্থগিত করেছেন।
শনিবার রাতে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খোলা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করবে।
রবিবার রাতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনালাপে একমত হয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের জন্য অপরিহার্য। ফোনালাপটি ২০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে এটি ছিল “গঠনমূলক।”
এদিকে, ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে “কয়েক সপ্তাহের আরও লড়াই” আশা করছে। সংঘাত চলতে থাকায় হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরান বলেছে, তারা পূর্ণ সিজফায়ার, ভবিষ্যতে পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা, এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া কোনো আলোচনায় বসবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের শর্তাবলী—ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি সীমিত করা এবং নাতানজ, ইসফাহান ও ফরডো পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ—ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে ইরান কিছু জাহাজের জন্য ২ মিলিয়ন ডলার নেয়, যা তারা দীর্ঘমেয়াদে নতুন আয় উৎসে রূপান্তর করতে চায়। ইরান সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া নেবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তিন পক্ষের উত্তেজনা ও সামরিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। এটি গ্লোবাল এনার্জি ফ্লো, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে সরাসরি আলোচনার কোনো ফল এখনো দেখা যায়নি।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

