16.5 C
London
May 24, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

রাহুল গান্ধী–ডোনাল্ড লু বৈঠক ঘিরে বিতর্কঃ ভারতে বিদেশি প্রভাব ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা

ভারতের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এবং মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু-কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত কিছু নথি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সামনে এনে দাবি করা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন প্রভাব কাজ করেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২২ সালে পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের পতন। সে সময় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত অনাস্থা ভোটে সরকার হারায় ইমরান খানের দল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে “সাইফার” নামে পরিচিত একটি কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ইমরান খান ও তার সমর্থকরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সরকারকে সরাতে চাপ প্রয়োগ করেছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অভিযোগে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ডোনাল্ড লু পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ইমরান খান সরকার সরানোর বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তবে এসব বক্তব্যের পূর্ণ সত্যতা আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বীকার করেনি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইমরান খানের মস্কো সফর এবং জাতিসংঘে রাশিয়া ইস্যুতে পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অবস্থানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে আসে। এরপর পাকিস্তানে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে এবং ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে এখন নতুন করে দাবি করা হচ্ছে যে, একই ধরনের কৌশল ভারতে প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ডোনাল্ড লুর সাক্ষাৎ এবং ২০২৪ সালের ভারতীয় লোকসভা নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড লুর ভারত সফর নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, মার্কিন কর্মকর্তাদের ভারতীয় রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য এবং মানবাধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার ও কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যের সঙ্গে একটি মিল দেখা গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মানবাধিকার বা গণতন্ত্র নিয়ে মন্তব্য করা নতুন কিছু নয় এবং এটিকে সরাসরি “ক্ষমতা পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র” হিসেবে দেখার আগে শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অতীতে একাধিকবার বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, বর্তমান সরকার বিরোধী মতকে দমন করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপালের মতো দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদেশি প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে আরও বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

চলমান যুদ্ধে বড় পতনের মুখে ইসরায়েলের অর্থনীতি

সাবেক মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তার মৃত্যুতে কুরুচিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া ট্র‍্যাম্পের, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্ষোভ

মারা গেছে বিখ্যাত মিম কুকুর চিমস