ব্রিটেনে সরকারের নির্ধারিত বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা গেলে লন্ডনে দুই বেডরুমের একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া গড়ে ২৫১ পাউন্ড পর্যন্ত কমতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ করা গেলে আগামী পাঁচ বছরে লন্ডনের ভাড়াটিয়াদের আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন, যা ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেই সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে শুধু লন্ডনেই বছরে ৮৮ হাজার বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে। মন্ত্রীরা স্বীকার করেছেন, ১৫ লাখ বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম। অন্যদিকে, লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের প্রণীত পরিকল্পনায় অনুকূল পরিস্থিতিতেও আগামী ১০ বছরে বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ৮০০টি বাড়ি নির্মাণ সম্ভব বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
সেন্টার ফর ব্রিটিশ প্রগ্রেসের (সিবিপি) নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করা গেলে পাঁচ বছরে লন্ডনের ভাড়া বর্তমান নির্মাণ প্রবণতার তুলনায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমতে পারে। এতে লন্ডনের ভেতরের এলাকার একটি সাধারণ দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটের ভাড়া মাসে ২৫১ পাউন্ড পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে লন্ডনের জনসংখ্যা বেড়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার। কিন্তু একই সময়ে যত নতুন আবাসন তৈরি হয়েছে, তা মাত্র ১৩ লাখ ৮৭ হাজার মানুষের বসবাসের জন্য যথেষ্ট ছিল। ফলে বাড়ির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা ভাড়া বাড়ার অন্যতম কারণ।
গবেষণা অনুযায়ী, লন্ডনের প্রতিটি বরোতেই ভাড়াটিয়ারা মাসে অন্তত ১৫০ পাউন্ড সাশ্রয় করতে পারেন। সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা ওয়েস্টমিনস্টারে, যেখানে মাসে ৩৫৪ পাউন্ড এবং কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসিতে ৩৬৭ পাউন্ড পর্যন্ত ভাড়া কমতে পারে।
অন্যান্য এলাকার মধ্যে ক্যামডেন ও হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহামে মাসে ২৮০ পাউন্ড, হ্যাকনিতে ২৬৬ পাউন্ড, ওয়ান্ডসওর্থে ২৬৩ পাউন্ড, টাওয়ার হ্যামলেটসে ২৫৯ পাউন্ড এবং ল্যাম্বেথ ও সাউথওয়ার্কে ২৫১ পাউন্ড করে সাশ্রয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের সহলেখক এবং সেন্টার ফর ব্রিটিশ প্রগ্রেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লরেন্স বলেন, পরিবারগুলোকে জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ খুঁজছে। তবে বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এই লক্ষ্য পূরণ হলে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক ভাড়া ২৫১ পাউন্ড পর্যন্ত কমতে পারে।
অন্য সহলেখক রব ব্ল্যাকি বলেন, গত ২৫ বছরে পর্যাপ্ত বাড়ি নির্মাণে ব্যর্থতার কারণে লন্ডনে ভাড়া অত্যধিক বেড়েছে। নির্বাচিত হলে ভাড়া কমানোকে তিনি তার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবেন।
গবেষণায় সামাজিক আবাসন নির্মাণের সম্ভাব্য সুফলও তুলে ধরা হয়েছে। নতুন নির্মিত বাড়ির মাত্র ১০ শতাংশ সামাজিক আবাসন হিসেবে বরাদ্দ করা হলে লন্ডনে অস্থায়ী আবাসনে থাকা পরিবারের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯ শতাংশ কমতে পারে। এতে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর বছরে প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত বাড়ি নির্মাণ করা গেলে কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলের কাছাকাছি বসবাসের সুযোগ পাবেন। এতে আবাসন ব্যয় কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

