13.1 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)শীর্ষ খবর

লন্ডন পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী, নারী ও সমকামীতা বিদ্বেষীর তকমা

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মসংস্কৃতি ও মানের ব্যাপক সমালোচনা করে এক প্রতিবেদন সম্প্রতি বৃটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে এই পুলিশ বাহিনীর মধ্যে চরম ব্যর্থতার নানা দিক উঠে এসেছে।

মেট্রোপলিটান পুলিশ বাহিনী নিয়ে এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে বৈষম্যের সংস্কৃতি, নারী ও শিশুদের রক্ষায় তাদের ব্যর্থতা, নিজেদের বাহিনীর ওপর নজরদারিতে অক্ষমতা এবং পুলিশের ওপর সাধারণ জনগণের আস্থাভঙ্গের ভয়াবহ চিত্র।

লন্ডন পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে এত ব্যাপক ব্যর্থতার চিত্র এর আগে কখনও সামনে আসেনি। এই বাহিনীতে পুলিশ কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার।

এই পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষাদান, ধর্ষণ এবং গুরুতর যৌন অপরাধের মত জনগণকে রক্ষা করার ক্ষেত্রগুলোকে “অগ্রাধিকার না দেয়া এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ না নেয়ার” কারণে নারী ও শিশুদের আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক মাত্রায় হয়রানির অনেক নজির তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট বলেছে লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বর্ণবাদী, নারীবিদ্বেষী ও সমকামীতা বিদ্বেষী।

প্রতিবেদনে যেসব বহু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে একটি হল একজন শিখ পুলিশ অফিসারকে তার দাড়ি ছাঁটতে বাধ্য করা- কারণ অন্য আরেকজন অফিসারের চোখে তার লম্বা দাড়ি ছিল ‘হাস্যকর’। আরেকজন শিখ অফিসারকে তার পাগড়ি খুলে জুতোর বাক্সে ঢুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনায় একজন মুসলিম পুলিশ অফিসার দেখেন লকারের ভেতর রাখা তার বুট জুতোর মধ্যে শূকরের মাংস ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এটা আবিষ্কার করে “স্তম্ভিত” হয়ে যান, কিন্তু প্রতিহংসার ভয়ে এই ঘটনার কথা কাউকে জানাননি।

আরও যারা এধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ অফিসার যিনি খোলাখুলিভাবে জানিয়েছিলেন যে তিনি সমকামী। তাকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হতো, তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং ইউনিফর্ম লুকিয়ে রাখা হতো এবং তার লকার তছনছ করা হতো।

নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরেকজন সমকামী পুলিশ কর্মী অন্যান্য সহকর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা জানার পর বলেন, “ আমি পুলিশ বাহিনীকে ভয় পাই। আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের ওপর আমার কোন আস্থা নেই।”

পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর বিভিন্ন দলে যোগ দেবার যোগ্যতা পরীক্ষায় অধস্তন কর্মচারীদের হেনস্তা করার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে অনেক অফিসারকে।

বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত একজন নারী অফিসার তার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, পদমর্যাদার দাপট দেখানো, অধস্তন অফিসারদের হেনস্তা ও অপদস্থ করার সংস্কৃতি এই বাহিনীতে ব্যাপক মাত্রায় বর্তমান।

এই যোগ্যতা পরীক্ষার মধ্যে ছিল খাবার খাওয়ার চ্যালেঞ্জ, যেখানে নারী অফিসারদের জোর করে বিশাল মিষ্টি চিজকেক পুরোটা খেতে বাধ্য করা হতো, যতক্ষণ না খেতে খেতে তারা বমি করছে, জানান নাম প্রকাশ না করা ওই নারী অফিসার।

তিনি আরও বলেন পুরুষ অফিসারদের একই ধরনের যোগ্যতা পরীক্ষায় একজন পুরুষ অফিসারকে গোসলখানায় শাওয়ার করার সময় যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। এ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা ও সহকর্মীদের মধ্যে ঠাট্টা-মস্করা পুলিশ বাহিনীতে খুবই চালু সংস্কৃতি।

এই ঠাট্টা-মস্করায় যোগ দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাকে একঘরে করা হয় এবং “সে দলের উপযুক্ত নয়” বলে মনে করা হয়, জানান ওই নারী অফিসার।

গোসল করার সময় অফিসারদের গায়ের ওপর প্রস্রাব করার ঘটনাও এই পর্যালোচনায় জানা গেছে।

‘শিশু কিউ’ নামে একজন কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী ছাত্রীর একটি ঘটনা গত বছর সামনে আসার পর শিশুদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ওই ছাত্রীর তখন মাসিক চলছিল। সেসময় স্কুলের ভেতর দুজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে নগ্ন করে তার শরীর তল্লাশি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয় এই ঘটনা বর্ণবৈষম্যের প্রকট একটি দৃষ্টান্ত। শরীর তল্লাশির সময় কৃষ্ণাঙ্গ অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ হিসাবে গণ্য করার বহু নজির পুলিশ বাহিনীর অফিসারদের মধ্যে পাওয়া গেছে।

একটি ঘটনায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর একজন বিশেষজ্ঞের কাছে সাহায্যের জন্য যায়, যিনি পুলিশ বাহিনীর সাথে জড়িত নন। কিশোরটি তাকে বলে যে নিজের সুরক্ষার জন্য সে সাথে ছুরি রাখছে, কারণ সে একটি গ্যাংয়ের সাথে জড়িত। কিন্তু ওই গ্যাংয়ের সংশ্রব সে ছাড়তে চায়।

এরপর একজন প্রাপ্তবয়স্ক ওই কিশোরের ওপর হামলা করে। ওই বিশেষজ্ঞ পুলিশকে হামলার ঘটনা জানান এবং ছুরিটি পুলিশের কাছে জমা দেন। কিন্তু অন্য একটি পুলিশ ইউনিটের অফিসাররা কিশোরটিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

“কিশোরটিকে সাহায্য করা আর সম্ভব হয়নি। সে সবকিছু খুলে বলতে আর কোনভাবে রাজি হয়নি, সে আর সহযোগিতাও করতে চায়নি।”

কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের তরুণ কিশোরদের প্রতি পুলিশ বাহিনীর আচরণ খুবই বৈষম্যমূলক বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

বলা হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করা বা তাদের সাহায্য করার মানসিকতার অভাব লন্ডন পুলিশ বাহিনীর অফিসারদের মধ্যে প্রকট। সেখানে বর্ণবাদ আর পদ্ধতিগত পক্ষপাতের যে ব্যাপকতা রয়েছে তা মোকাবেলা করার কোন উদ্যোগ বাহিনীর মধ্যে অনুপস্থিত।

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আবারও ধর্মঘটের ডাক দিতে পারেন সিনিয়র ডাক্তাররা

Business Finance: Recovery Loan Scheme

বিদেশিদের স্বল্পমেয়াদী ভিসা দিচ্ছে সৌদিআরব

নিউজ ডেস্ক