TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

লেবাননে ১০ মিনিটে ১৬০ বোমা নিক্ষেপ, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

ইরানের সঙ্গে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে নজিরবিহীন ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ১৬০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা চলমান সংঘাতে লেবাননের ওপর অন্যতম ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার দিনের বেলায় চালানো এই সমন্বিত হামলায় রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। একযোগে বিস্ফোরণে নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বৈরুতেই অন্তত ৩০০ জন নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু বহুতল ভবন, আহতদের মধ্যে রয়েছে শিশুও।
লেবাননের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। দেশজুড়ে অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আহতদের চাপে হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে সংকট।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, “এটারনাল ডার্কনেস” নামের অভিযানে বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ১০০টি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত “চমকপ্রদ আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আক্রমণগুলোর একটি।
এর আগে ইসরায়েল স্পষ্ট করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। যদিও পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারী পক্ষের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনেও হামলা চালায় তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলাকে “নতুন গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষিত বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের ভেতরেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ একে দেশের ইতিহাসে বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, সামরিকভাবে কিছু অর্জন হলেও রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং যে কোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

আরো পড়ুন

নির্বাচনে জিততে ট্র‍্যাম্পের বিতর্কিত বার্তা

ইরানে পাঠানো মার্কিন রণতরির শৌচাগার অচল, বিপাকে নৌসেনারা

ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ, আটশরও বেশি বৃত্তি