6.5 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুদের স্বাস্থ্যে লাগাম টানতে জাঙ্ক ফুড বিজ্ঞাপনে যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

শিশুদের স্থূলতা মোকাবিলার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে সোমবার থেকে টেলিভিশন ও অনলাইনে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনি সমৃদ্ধ খাদ্য ও পানীয় (HFSS) রাত ৯টার আগে টিভিতে এবং অনলাইনে যেকোনো সময় বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

 

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রযোজ্য এবং শিশুদের স্থূলতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত পণ্যগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে রয়েছে সফট ড্রিংকস, চকলেট ও মিষ্টান্ন, পিজা এবং আইসক্রিম। সরকারের মতে, এসব পণ্যের আগ্রাসী বিপণন শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু পরিচিত জাঙ্ক ফুডই নয়, কিছু ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল ও পোরিজ, মিষ্টিযুক্ত রুটি জাতীয় পণ্য, পাশাপাশি প্রস্তুত মূল খাবার ও স্যান্ডউইচও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কোন পণ্য নিষিদ্ধ হবে, তা নির্ধারণে একটি স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে পুষ্টিমান ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ এবং চিনির মাত্রা বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ ওটস এবং বেশিরভাগ পোরিজ, মিউসলি ও গ্রানোলা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকলেও, অতিরিক্ত চিনি, চকলেট বা সিরাপ যুক্ত সংস্করণগুলো প্রভাবিত হতে পারে। তবে কোম্পানিগুলো চাইলে নিষিদ্ধ পণ্যের স্বাস্থ্যকর সংস্করণ বিজ্ঞাপনে তুলে ধরতে পারবে।

সরকারের আশা, এতে খাদ্য প্রস্তুতকারীরা আরও স্বাস্থ্যসম্মত রেসিপি উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবে।
মার্কেটিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নিয়মে বড় ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ইনিশিয়ালস সিএক্স–এর ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি ডিরেক্টর জশ টিলির মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্র্যান্ডের সাধারণ বিজ্ঞাপন দিতে পারবে, তবে নির্দিষ্ট অস্বাস্থ্যকর পণ্যের প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে পেপসিকো বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বড় ব্র্যান্ডের লোগো দেখানো বিজ্ঞাপন চালু রাখা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই নিয়ম বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাদের বিজ্ঞাপন সাধারণত নির্দিষ্ট পণ্যের তথ্যভিত্তিক প্রচারের ওপর নির্ভরশীল, যা নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আর সম্ভব হবে না। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ছোট কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে, যেসব প্ল্যাটফর্মে দর্শকের ২৫ শতাংশের বেশি ছিল ১৬ বছরের নিচে, সেখানে HFSS পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ ছিল। নতুন নিয়ম আরও কঠোর এবং তা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (ASA) ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এনএইচএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রিসেপশন শ্রেণির প্রায় প্রতি ১০ জন শিশুর একজন স্থূলতায় ভুগছে। পাশাপাশি, পাঁচ বছর বয়সের মধ্যেই প্রতি পাঁচজন শিশুর একজনের দাঁতে ক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হয়, স্থূলতার কারণে প্রতিবছর এনএইচএসের ব্যয় ১১ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলা থেকেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে এলে শিশুদের খাদ্যপছন্দ প্রভাবিত হয় এবং এতে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বিজ্ঞাপন নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রায় ২০ হাজার শিশুর স্থূলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাথরিন ব্রাউন এই পদক্ষেপকে “অনেক দেরিতে নেওয়া হলেও সঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলাও সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশন জানিয়েছে, খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারীরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করে মানুষকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্থাটির দাবি, গত এক দশকে তাদের সদস্যদের পণ্যে লবণ ও চিনির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ এবং ক্যালরি প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমানো হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের করবিনের ‘ইয়োর পার্টি’তে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ বিভাজনের আশঙ্কা

উত্তর আয়ারল্যান্ডে বনফায়ারে শরণার্থী নৌকার কল্পচিত্রঃ বর্ণবাদী ‘উৎসব’ ঘিরে তীব্র নিন্দা

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালিয়েছিলেন ক্যামডেনের মেয়র

অনলাইন ডেস্ক