18.3 C
London
August 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

শুধু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগঃ চেক প্রজাতন্ত্রে সরকারি স্কলারশিপে পি‌এইচডি

ইউরোপে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে চেক প্রজাতন্ত্র সরকারের সরকারি স্কলারশিপ কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে যোগ্য দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো মাস্টার্স ও ডক্টরাল বা পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

চেক সরকারের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে দেশটির বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্বাচিত ফলো-আপ মাস্টার্স এবং ডক্টরাল প্রোগ্রামে বাংলাদেশি নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন।

যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো—ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান—এই নির্দিষ্ট স্কলারশিপের যোগ্য দেশের তালিকায় নেই। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষ একটি সুযোগ।

স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত চেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন মাস্টার্স এবং ডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনা করা যাবে। তবে সব ধরনের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রাম এই বৃত্তির আওতায় পড়বে না। আবেদনকারীকে সরকারি তালিকায় থাকা নির্দিষ্ট ইংরেজি-মাধ্যমের প্রোগ্রামগুলোর মধ্য থেকে নিজের পছন্দের কোর্স নির্বাচন করতে হবে।

চেক সরকারের এই স্কলারশিপের অন্যতম বড় সুবিধা হলো মাসিক আর্থিক সহায়তা। মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ১৬ হাজার চেক ক্রাউন এবং ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ হাজার ৯৬০ চেক ক্রাউন পর্যন্ত মাসিক বৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আর্থিক সহায়তা মূলত চেক প্রজাতন্ত্রে পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। আবাসন, খাবার, স্থানীয় যাতায়াতসহ দৈনন্দিন খরচের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে চেক প্রজাতন্ত্রে যাওয়া এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার বিমানভাড়া এই বৃত্তির আওতায় থাকবে না।

২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। আবেদন করার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অর্থাৎ আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য হাতে সময় রয়েছে এক মাসেরও কম।

আবেদনকারীদের শুধু অনলাইন ফরম পূরণ করলেই হবে না। চেক সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষা ও সাধারণ একাডেমিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

মাস্টার্স পর্যায়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। আর ডক্টরাল বা পিএইচডি পর্যায়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি গবেষণা পরিকল্পনা, গবেষণাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, সুপারিশপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে।

এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলেই বৃত্তি নিশ্চিত হবে না। চেক সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফল শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ যোগ্যতা পূরণ করলেও প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কলারশিপ পাবেন না।

আবেদনকারীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—এই বৃত্তির আওতায় কেবল সরকারি তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট প্রোগ্রামেই আবেদন করা যাবে। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের কোর্স আছে কি না, সেটি দেখার পাশাপাশি ওই কোর্সটি সরকারি স্কলারশিপ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

চেক সরকারের এই কর্মসূচি মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীরা চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপে দেশের যোগ্যতার তালিকা অনেক সময় সীমিত থাকে। সেখানে চেক সরকারের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা দেশটির শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপে উচ্চশিক্ষার একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ সময় হওয়ায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, ভাষাগত প্রস্তুতি, গবেষণা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

সূত্রঃ চেক সরকারের সরকারি ‘স্টাডি ইন চেকিয়া’ স্কলারশিপ পোর্টাল ও চেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এম.কে

আরো পড়ুন

পদত্যাগ নিয়ে স্ববিরোধী বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির শপথ ভঙ্গঃ আইন উপদেষ্টা

ধানের শীষের ১৪ গুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হাবিব

অনলাইন ডেস্ক

চীনের অর্থায়নে সিলেটে ১ হাজার শয্যার আধুনিক সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, স্থান পরিদর্শন সম্পন্ন