TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের এখতিয়ার ভারতের নেইঃ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত

১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার আইনি এখতিয়ার ভারতের নেই বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন হতে এ তথ্য জানা গিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে ভারতকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে চুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।

চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু রাটলে হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রকল্প (আরএইচইপি)। আদালত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রকল্পটির বাঁধের দেয়াল ও বিদ্যুৎ গ্রহণ কাঠামোর নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপর কংক্রিট নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা বা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও আরও ৯০ দিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের জুলাই নাগাদ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে রাটলে প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ভারতকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত রায় পর্যালোচনা করে সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় দুই দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইসলামাবাদ আরও জানিয়েছে, চুক্তির ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা এবং যৌথ কার্যক্রম কীভাবে শুরু করা যায়, তা নির্ধারণে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করা হবে।

১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি ব্যবহারের বিষয়ে দুই দেশের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিরোধের প্রধান আইনি কাঠামো হিসেবে কার্যকর রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পানি নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই সিদ্ধান্ত সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের পানি-সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

সূত্রঃ পিসিএ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কানাডারঃ বাড়ছে বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনা

কোরআনের আয়াত শেখানোয় মা-সন্তানের কারাদণ্ড

বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বন্ধ করে দিল আরব আমিরাত