18.4 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সৌদি–তুরস্ক–পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটের নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’: প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জোটটির স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেবেন পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা।

জোটের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গঠিত কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জোটের আনুষ্ঠানিক নাম নির্ধারণ, রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং প্রথম মহাসচিব নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামোর সূচনা হয়।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

হাকান ফিদান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি সম্মান রেখে জোটটি পরিচালিত হবে।

তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। নতুন জোট এ অঞ্চলের অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জোটটিকে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিদান জানান, জোটের মৌলিক নীতির সঙ্গে একমত এমন আরও দেশকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা প্রস্তুত। অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তুরস্কের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মিসরসহ অন্যান্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আঙ্কারার আগ্রহ রয়েছে। ফলে তিন দেশের উদ্যোগটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চুক্তি ঘোষণার পর থেকেই জোটটির সম্ভাব্য লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনেকে মনে করছেন, ইরানকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রেও এই জোট ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই জোটটি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গঠিত হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তুরস্কের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ফিদান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণের ফলে ন্যাটো কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোট ও চুক্তির অধীনে তুরস্কের দায়িত্ব বাতিল বা পরিবর্তিত হবে না। নতুন জোট বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও সেনাপ্রধান জেনারেল সেলজুক বায়রাক্তারোগলু উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল রুওয়াইলি অংশ নেন।

বৈঠকের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেন হাকান ফিদান। তিনি নেতানিয়াহু সরকারকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি অনুসরণের জন্য অভিযুক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দখলদারিত্বের অবসানের পরিবর্তে বর্তমান ইসরাইলি সরকার যে নীতি অনুসরণ করছে, তা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু ফিলিস্তিন বা মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকের মধ্য দিয়ে জোটটি এখন আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, পাকিস্তানি মহাসচিব নিয়োগ এবং ভবিষ্যতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স \ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানের সঙ্গে শত্রুতা শেষঃ ট্রাম্পের ঘোষণা, নতুন বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারের জান্তামুক্ত এলাকায় ঐক্য সরকারের কার্যক্রম শুরু

রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের