25.6 C
London
June 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টারমারের বিদায়ের জল্পনায় আলোচনায় শাবানা মাহমুদঃ বার্নহ্যাম ক্ষমতায় এলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীই থাকছেন

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোরালো গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে সরিয়ে যদি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্ষমতায় আসেন, তাহলে শাবানা মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বেই বহাল থাকতে পারেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বার্নহ্যাম ও শাবানা মাহমুদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও তিনি সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে শাবানা মাহমুদ সরকারের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ প্রাপ্তির নিয়ম কঠোর করা এবং শরণার্থীদের স্বয়ংক্রিয় স্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা।

শুধু অভিবাসন নীতিই নয়, পুলিশ ব্যবস্থায়ও ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের একাধিক পুলিশ বাহিনীকে একীভূত করা, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আদলে একটি জাতীয় পুলিশ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার পদ বিলুপ্ত করা।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বার্নহ্যাম আগামী সপ্তাহে স্টারমারকে একটি কঠিন রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারেন। তিনি ‘সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর’-এর অংশ হিসেবে স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে পারেন। অন্যথায় মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের পদত্যাগের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে আলোচনা চলছে।

এদিকে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশকারী লেবার এমপিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করা এমপির সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। বার্নহ্যামপন্থীরা প্রায় ২০০ এমপির সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে, তিনি বার্নহ্যামের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা করেননি। বরং তিনি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ মনোযোগী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাবানা মাহমুদের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি লেবার পার্টির তুলনামূলক ডানঘেঁষা অংশের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বার্নহ্যামকে সাধারণত দলটির নরম-বামপন্থী ধারার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে তাদের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা দলীয় সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বার্নহ্যাম নিজেও অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অভিবাসন আটক কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন এবং বলেছেন, যেসব আবেদনকারীর দাবির ভিত্তি দুর্বল, তাদের দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হওয়া উচিত।

মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়লাভের পর দেওয়া ভাষণেও বার্নহ্যাম অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ একটি ন্যায্য ও কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থা দেখতে চায়, যেখানে মানবিকতা ও আইনের শাসনের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।

যদিও বার্নহ্যাম ও শাবানা মাহমুদের মুখপাত্ররা সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবুও ব্রিটিশ রাজনীতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

কে এই লর্ড ব্রাউনলো?

ওমিক্রনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ১ বিলিয়ন পাউন্ড গ্রান্ট

অনলাইন ডেস্ক

অর্থনৈতিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিং নিয়ে ব্রিটেনের আর্থিক খাতে নতুন উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক