হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালিয়েছে। গত জুনে কার্যকর হওয়া সমঝোতা স্মারকের পর এটিকে সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এপ্রিলের নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ। বিরোধের মূলে রয়েছে প্রণালির জাহাজ চলাচলের রুট ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে ওমান উপকূলঘেঁষা পথকে সমর্থন করছে, অন্যদিকে ইরান নিজেদের উপকূলসংলগ্ন রুট ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ সংঘাত শুধু নৌপথের নিরাপত্তা নয়, বরং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ও কৌশলগত আধিপত্যের লড়াই। উভয় দেশের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা ভিন্ন হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়াতে চায়। অন্যদিকে ইরান রাজনৈতিক দৃঢ়তা দেখিয়ে আঞ্চলিক অবস্থান ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও সমঝোতার পথকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক এ সংকট পুরো অঞ্চলে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্রঃ দ্য কনভারসেশন
এম.কে

