5.8 C
London
April 22, 2026
TV3 BANGLA
প্রবাসে বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচনে সিলেটি প্রার্থীদের দাপট, মূল লড়াই লুৎফুর–সিরাজুলে

যুক্তরাজ্যের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে মেয়র পদ ঘিরে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এবারের নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের তিনজন প্রার্থী অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির আগ্রহও তুঙ্গে।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাসপায়ার পার্টির বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান, লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম, টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টসের জামি আলী এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের মোহাম্মদ আবদুল হান্নান।
এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কনজারভেটিভ, গ্রিন, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও। আগামী ৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশি প্রভাবের কেন্দ্র টাওয়ার হ্যামলেটস
টাওয়ার হ্যামলেটস দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রভাবের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই বরোর দুটি সংসদীয় আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী ও আপসানা বেগম।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান ও লেবার প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে।

তিনবারের নির্বাচিত মেয়র লুৎফুর রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসের রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। সিলেটে জন্ম নেওয়া তিনি শৈশবে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং আইন পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

২০১০ সালে সরাসরি নির্বাচিত প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০১৫ সালে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে আদালতের রায়ে পদ হারান এবং পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। পরে ২০২২ সালে অ্যাসপায়ার পার্টির ব্যানারে আবারও নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

সম্প্রতি তার নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের তদারকি জোরদার হওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, পূর্বের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছেন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোট চান।

২০০১ সাল থেকে টানা সাতবার নির্বাচিত কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী। তিন দশকের বেশি সময় ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি।

কর্মজীবনের শুরুতে দরজির কাজ করা সিরাজুল ইসলাম পরবর্তীতে সামাজিক বৈষম্য ও বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন। নির্বাচিত হলে পাঁচ হাজার নতুন ঘর নির্মাণসহ আবাসন খাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আইন পেশায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যারিস্টার জামি আলী এবার নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জন্ম নেওয়া এই প্রার্থী যুক্তরাজ্যে আইনচর্চার পাশাপাশি ইউরোপীয় পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

তিনি কাউন্সিল প্রশাসনে স্বচ্ছতার অভাব ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে স্বাধীন অডিট, হাউজিং খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রার্থী আবদুল হান্নান একজন উদ্যোক্তা ও টেলিকম নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হয়ে আসা এই প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস করছেন।

তিনি আবাসন সংকট মোকাবিলা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য গণপরিবহন সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় ইস্যু, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি—এই তিন বিষয়ই শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্রঃ সিলেট ভিউ

এম.কে

আরো পড়ুন

রমজানে যেসব নিয়ম মানতে হবে ব্রিটিশ মুসলিমদের

ব্রিটেনে গর্ভবতী মা ও সন্তানের যত্নে বাংলা অ্যাপ

চুরি হওয়া ৪০,০০০ মোবাইল ফোন চীনে পাচারের আন্তর্জাতিক চক্র ভাঙলো ব্রিটিশ পুলিশ