21.8 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’: ডেনমার্কের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তির ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে ওয়াশিংটন। ১৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় ট্রাম্প এটিকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য একটি ‘চমৎকার’ ও ‘ঐতিহাসিক’ সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপটির উপযুক্ত বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। এ কাজে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে। তবে ট্রাম্প যে ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের’ কথা বলেছেন, সেই দাবির বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ব্যবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খরচ হবে না।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, রাশিয়া বা চীনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে ওয়াশিংটনের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া সামরিক ঘাঁটি বা সামরিক উপস্থিতি স্থাপন করতে পারবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করা।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার আগেও তিনি দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং ডেনমার্ক একা এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়।
শুক্রবারের ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন, কিন্তু কেউই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। নিজের ঘোষিত চুক্তিকে তিনি এই দীর্ঘদিনের পরিস্থিতির ‘স্থায়ী ও চূড়ান্ত’ সমাধান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। ট্রাম্প এর আগে গ্রিনল্যান্ডে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ এবং অঞ্চলটির কৌশলগত সামরিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
তবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল। নতুন ঘোষণার পরও চুক্তিটির প্রকৃতি, আইনি কাঠামো এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের অবস্থান কী হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘোষিত সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

আরো পড়ুন

ইরানে সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগে সিনেটে ভোটাভুটি, ফের জিতলেন ট্রাম্প

আবারও অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করল চীন

রাশিয়ার উপর বেশি নির্ভর করবেন না, ভারতকে সতর্ক করল আমেরিকা