15.7 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে এলিজাবেথ লাইনে ট্রেন মিস করে কর্মীকে ঘুষিঃ দুই দিন পর মৃত্যু

ট্রেন মিস করার পর ক্ষুব্ধ হয়ে এলিজাবেথ লাইনের এক কর্মীর মুখে ঘুষি মারার ঘটনায় ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আয়োডেলে জামগবাদিকে অনির্দিষ্টকাল হাসপাতালে আটকে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬১ বছর বয়সী ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন বা টিএফএলের কর্মী জর্জে ওর্তেগা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ড স্টেশনে হামলার শিকার হন। আয়োডেলে জামগবাদির একটি ঘুষির আঘাতে তিনি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্মে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। দুই দিন পর গুরুতর মাথায় আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।
জামগবাদির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তাকে বিচারের জন্য উপযুক্ত নয় বলে ঘোষণা করা হয়। বুধবার ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে অনুষ্ঠিত ‘ট্রায়াল অব ইস্যু’তে জুরি সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত দেয়, জর্জে ওর্তেগার মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া কাজটি জামগবাদিই করেছিলেন।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ বা বিটিপি জানিয়েছে, জামগবাদিকে কঠোর শর্তযুক্ত হাসপাতাল আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় তাকে হাসপাতালে আটক রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এই আদেশ অনুযায়ী, জাস্টিস বিষয়ক মন্ত্রীর অনুমোদন অথবা মেন্টাল হেলথ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছাড়া জামগবাদিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া, অন্য কোনো হাসপাতালে বা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা কিংবা ছুটিতে পাঠানো যাবে না।
ঘটনার দিন জর্জে ওর্তেগা এবং টিএফএলের আরও দুই কর্মী একটি অফিস থেকে বের হয়ে জামগবাদিকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। বিটিপির তথ্য অনুযায়ী, জামগবাদি সম্ভবত তার ট্রেন মিস করার পর ইলফোর্ড স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি দেয়ালে লাথি মারছিলেন।
এ সময় কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে জামগবাদি জর্জে ওর্তেগার দিকে ঘুষি ছোড়েন। জর্জের সহকর্মী মোহাম্মদ আলিম আদালতকে জানান, জামগবাদিকে কিছুটা অস্থির ও ক্ষুব্ধ মনে হচ্ছিল এবং তিনি ‘কারও কোনো সমস্যা আছে?’ ধরনের কথা বলছিলেন।
মোহাম্মদ আলিম আদালতে বলেন, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জামগবাদি জর্জের বাম পাশের দিকে একটি ঘুষি মারেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী ডান হাত ব্যবহার করেছিলেন এবং ঘুষিটি জর্জের কানের পাশের অংশে লাগে। আঘাতের পর জর্জ মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথার পেছনে আঘাত পান।
মামলার প্রসিকিউটর প্যাট্রিক ডেনিস আদালতকে জানান, ঘটনার পর পুলিশকে জামগবাদি বলেছিলেন, তিনি জর্জের মুখে ঘুষি মেরেছেন এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে, তা জানতে চেয়েছিলেন।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. মাইকেল পারসন্স জানান, জর্জে ওর্তেগার মৃত্যু হয়েছে গুরুতর ভোঁতা আঘাতজনিত মাথার ক্ষতির কারণে। মাথার পেছনে শক্তভাবে আঘাত লাগার সঙ্গে তার আঘাতের ধরন সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
চিকিৎসকের মতে, মুখে শক্তিশালী ঘুষির আঘাতের পর জর্জ মাটিতে পড়ে যান এবং মাথার পেছনে আঘাত পান। এরপরই এমন একটি চিকিৎসাগত জটিলতার ধারাবাহিকতা শুরু হয়, যার পরিণতিতে তার মৃত্যু ঘটে।
হামলার একদিন পর, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর জামগবাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রায়ের পর জর্জে ওর্তেগার পরিবার তাকে একজন ভালোবাসাপূর্ণ স্বামী, নিবেদিতপ্রাণ বাবা এবং অসাধারণ দাদা হিসেবে স্মরণ করেছে। পুলিশের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিবার জানায়, প্রতিদিনই তারা জর্জকে মিস করে এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও ছোট ছোট মুহূর্তগুলো তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে না পারার কষ্ট অনুভব করে।
পরিবার আরও জানায়, তারা চায় জর্জ কীভাবে মারা গেছেন তার চেয়ে তিনি কী ধরনের জীবন কাটিয়েছেন, সেটিই মানুষের মনে থাকুক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, দয়ালু, উদার, যত্নশীল, রসিক, জ্ঞানী এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন মানুষ।
জর্জের ছবি আঁকার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ও প্রতিভা ছিল। তার তৈরি শিল্পকর্মগুলো পরিবার এখনও নিজেদের বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছে বলে জানিয়েছে।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান পরিদর্শক পল অ্যাটওয়েল জর্জের পরিবারের ধৈর্য, শক্তি ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জর্জের পরিবারকে মামলার এই পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং এই বিলম্ব তাদের শোককে আরও কঠিন করে তুলেছে।
পল অ্যাটওয়েল বলেন, জর্জ একজন দয়ালু ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন এবং ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি সহিংসতার শিকার হন। রেল নেটওয়ার্কে যাতায়াত বা কাজ করার সময় কাউকে নির্যাতন, ভয় দেখানো কিংবা সহিংসতার শিকার হওয়া উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এম.কে

আরো পড়ুন

ইউরোপ ভ্রমণের জন্য নাগরিকদের ই-গেইট ব্যবহারের চুক্তি করতে উদগ্রীব যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে মানবদেহে নিপাহ ভাইরাসের টিকা পরীক্ষা শুরু

যুক্তরাজ্যে ই-সিগারেট বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সরকার