15.7 C
London
June 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আয়ারল্যান্ড সীমান্তপথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশঃ বেলফাস্ট হামলার পর অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে শিরশ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগে সুদানের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সোমবার রাতে বেলফাস্টের উত্তরাঞ্চলের কিনেয়ার্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি, স্থানীয়ভাবে স্টিফেন ওগিলভি নামে পরিচিত, মুখ, ঘাড় ও পিঠে গুরুতর আঘাত পান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ বছর বয়সী এক সুদানি নাগরিককে হত্যাচেষ্টা, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র বহন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার তাকে বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

পুলিশের প্রধান কনস্টেবল জন বাউচার জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুদান থেকে প্রথমে ফ্রান্সের প্যারিসে যান। পরে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে পৌঁছে সেখান থেকে বাসে করে বেলফাস্টে আসেন। বেলফাস্টে পৌঁছে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শরণার্থী মর্যাদা লাভ করেন। তাকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতিও দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথাকথিত “আইরিশ রুট” নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ডাবলিনে গিয়ে সেখান থেকে স্থলপথে উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করে আশ্রয়ের আবেদন করা হয়। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন ভ্রমণ ব্যবস্থার কারণে সীমান্তে নিয়মিত অভিবাসন তল্লাশি হয় না।

এদিকে হামলার পর মঙ্গলবার রাতে বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি বাড়ি, একটি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সুপারমার্কেট এবং বাস ও পুলিশ গাড়িসহ একাধিক যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওকলি স্ট্রিট, লেগান স্ট্রিট ও ক্রামলিন রোড এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা যায়, আগুনে আক্রান্ত বাড়ির পাশের ঘরগুলো থেকে শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে। একজন ধর্মীয় নেতা অভিযোগ করেন, কিছু মানুষকে শুধু কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার কারণেই তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী মিশেল ও’নিল এসব ঘটনাকে “জঘন্য কাপুরুষতা” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বর্ণবাদ ও সহিংসতার কোনো স্থান সমাজে নেই। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন উত্তর আয়ারল্যান্ড বিষয়ক সচিব হিলারি বেনও। তিনি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ ও সন্ত্রাসী আচরণের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।

বিচারমন্ত্রী নাওমি লং বলেন, সীমান্তপথে মানবপাচার ও অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এনেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, বিরোধী কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ এই ঘটনাকে অবৈধ অভিবাসন নীতির দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ না করে দ্রুত ফেরত পাঠানোর নীতি প্রয়োজন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার হামলার ঘটনাকে “বীভৎস” আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশের রাস্তায় এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তিনি আহত ব্যক্তির প্রতি সমবেদনা জানান এবং হামলা প্রতিহত করতে এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষ ও জরুরি সেবাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

এদিকে পুলিশ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। প্রধান কনস্টেবল জন বাউচার বলেন, এই হামলার ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

সৌদিতে চাকরি খুঁজছেন টরি এমপি

ব্রেক্সিট মন্ত্রী লর্ড ফ্রস্টের পদত্যাগ

লন্ডনে মাইগ্রান্ট হোটেলে ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগে তরুণী গ্রেপ্তার