TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আশ্রয়প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ফারাজের ক্ষোভঃ রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন করে উত্তপ্ত ব্রিটেন

এসেক্সের ওয়েদারসফিল্ডে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনকেন্দ্র পরিদর্শনের পর সেখানকার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কেন্দ্রটিকে ‘ছুটির ক্যাম্পের’ সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেন, সেখানে প্রায় ৮০০ তরুণ পুরুষের জন্য নানা ধরনের বিনোদন ও ক্রীড়া সুবিধা রয়েছে।

ফারাজের পোস্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জিম, শরীরচর্চার কক্ষ, ফুটবল মাঠ এবং ইনডোর ক্রীড়া হল। বাস্কেটবল, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সেখানে বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি টেলিভিশন, পুল টেবিল ও নাশতার দোকানসহ বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ব্রেইনট্রি জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এটি সাবেক সামরিক বিমানঘাঁটির জায়গায় প্রতিষ্ঠিত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ক্লিয়ারস্প্রিংস রেডি হোমস কেন্দ্রটি পরিচালনা করে।

ফারাজ আরও দাবি করেন, কেন্দ্রের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে মোবাইল ফোন দেওয়া হয় এবং প্রত্যেককে সপ্তাহে ৯.৯৫ পাউন্ড করে ব্যক্তিগত খরচের ভাতা দেওয়া হয়। খাবারের ক্ষেত্রে দিনে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার পোস্টে দাবি করা হয়েছে, পরিবেশিত সব মাংস হালাল।

আশ্রয়প্রার্থীদের যাতায়াতের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ফারাজ। তার দাবি, ১৭টি মিনিবাস সপ্তাহে সাত দিন, দিনে তিনবার করে ওয়েদারসফিল্ড থেকে ব্রেইনট্রি, চেলমসফোর্ড ও কোলচেস্টারের মতো আশপাশের শহরে বাসিন্দাদের নিয়ে যায়। রিফর্ম ইউকের এসেক্স কাউন্সিল নেতা পিটার হ্যারিসও তার পরিদর্শন-ভিত্তিক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন।

ওয়েদারসফিল্ড কেন্দ্রের সক্ষমতা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রেইনট্রি জেলা পরিষদ জানিয়েছে, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক পরিচালন সক্ষমতা ২০২৬ সালের জুনে ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ১,২৪৫ করার কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের জানিয়েছে। কেন্দ্রটির কার্যক্রম ২০২৭ সালের এপ্রিলের পরও চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই সম্প্রসারণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। ব্রেইনট্রি জেলা পরিষদ জানিয়েছে, কেন্দ্রটির অবস্থান, স্থানীয় পরিষেবার ওপর চাপ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তারা শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাপনাকাঠামোও কাজ করছে।

এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওয়েদারসফিল্ড কেন্দ্রের বাসিন্দাদের জন্য নাচ, ক্রিকেট, শিল্পচর্চা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। এসব কার্যক্রমের কিছু অর্থ এসেছে দাতব্য সংস্থা ও বিভিন্ন অনুদান থেকে।

তবে ওয়েদারসফিল্ডকে শুধু সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। হেলেন বাম্বার ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে কেন্দ্রটির বিচ্ছিন্ন অবস্থান, সীমিত ব্যক্তিগত পরিসর ও ক্যাম্পসদৃশ পরিবেশের কারণে সেখানে থাকা কিছু আশ্রয়প্রার্থীর মানসিক চাপের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

ফারাজ তার বক্তব্যে এই ব্যবস্থাকে করদাতাদের অর্থের অপচয় হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে অনিয়মিত অভিবাসীদের আটক ও প্রত্যাবাসনের নীতি গ্রহণ করবে।

ওয়েদারসফিল্ডে থাকা ব্যক্তিরা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে সরকারের আবাসনে রয়েছেন; তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অভিবাসন অবস্থান বা আশ্রয় আবেদনের চূড়ান্ত ফল একই নয়। তাই রাজনৈতিক অভিযোগ ও সরকারি তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

ওয়েদারসফিল্ড নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু আশ্রয়প্রার্থীদের জীবনযাপন বা সরকারি ব্যয়কে ঘিরে নয়; এর সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব, কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতির দিকনির্দেশও জড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতা ১,২৪৫ করার পরিকল্পনা কার্যকর হলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।

সূত্রঃ নাইজেল ফারাজের ফেসবুক পোস্ট, রিফর্ম ইউকের প্রকাশিত প্রতিবেদন, ব্রেইনট্রি পরিষদের তথ্য

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের নেট মাইগ্রেশন ব্রেক্সিট-পূর্ব স্তরে নেমে আসার পূর্বাভাস

যুক্তরাজ্যে ফুটপাথে ফেলে রাখা বিনে £৮০ জরিমানা, কাউন্সিলের কঠোর নির্দেশনা

যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে ধর্মঘট ও জীবনযাত্রার ব্যয়