15.3 C
London
September 8, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের অবৈধ কেয়ার হোমে রাখা হচ্ছেঃ বছরে খরচ ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড

ইংল্যান্ডে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের নিবন্ধনহীন ও অবৈধ কেয়ার হোমে রাখার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলগুলো বছরে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি করদাতাদের অর্থ ব্যয় করছে। দ্য গার্ডিয়ান ও ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের যৌথ তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অর্থ প্রদানের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দুই বছরে ৪৮০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি অবৈধ প্লেসমেন্টে শিশুদের রাখা হয়েছে।

ইংল্যান্ডে অফস্টেডে নিবন্ধিত নয় এমন শিশুদের কেয়ার হোম পরিচালনা করা ফৌজদারি অপরাধ। তারপরও নিবন্ধিত কেয়ার হোমে পর্যাপ্ত জায়গার সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব কাউন্সিল কোনো না কোনোভাবে অনিবন্ধিত কেয়ার ব্যবস্থার ব্যবহার করছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গুরুতর মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত এবং জটিল আচরণগত সমস্যায় থাকা বয়স্ক শিশুদের জন্য উপযুক্ত নিবন্ধিত কেয়ার হোমের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে এসব শিশুদের রাখার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনিবন্ধিত স্থাপনা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু কেয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলেও তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ গেছে। এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সরকারি অর্থ যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

কিছু শিশুর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান প্রয়োজন হওয়ায় একাধিক কেয়ার কর্মী নিয়োগ করতে হয়। এর ফলে একটি প্লেসমেন্টের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তদন্তে দেখা গেছে, অন্তত নয়টি কাউন্সিল একটি শিশুর প্লেসমেন্টের জন্য ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ দিয়েছে।

প্রতি প্লেসমেন্টে গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় হওয়ার কারণে কেয়ার খাতের বাইরের ব্যবসায়ীরাও এই বাজারে প্রবেশ করেছেন। তদন্তে সম্পত্তি ব্যবসায়ী, নির্মাণ ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মালিক, সংগীতশিল্পী এবং সাবেক সামরিক সদস্যদের এমন কেয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইংল্যান্ডের শিশু কমিশনার র‍্যাচেল ডি সুজা বলেছেন, এসব তথ্য শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এনেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শিশু কেয়ার হোমগুলো পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে এবং সেসব প্লেসমেন্টে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে।

তদন্তে প্রসপেরো হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ারকে অবৈধ কেয়ার ব্যবস্থায় কর্মী সরবরাহকারী বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত দুই বছরে ১৪টি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠানটিকে ৭.৬ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়েছে। এর মাধ্যমে ৮৬টি অনিবন্ধিত শিশু কেয়ার প্লেসমেন্টে কর্মী সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রসপেরো জানিয়েছে, তারা কোনো অনিবন্ধিত কেয়ার হোম পরিচালনা করে না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা শুধু কর্মী সরবরাহ করেছে এবং শিশুদের প্লেসমেন্ট, মূল্যায়ন, কেয়ার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।

তবে অফস্টেড জানিয়েছে, কোনো এজেন্সির কর্মীরা যদি প্রতিদিন কোনো স্থাপনায় উপস্থিত থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মীদের অনুপস্থিতিতে সেটি পরিচালনা করেন, তাহলে ওই এজেন্সিও কেয়ার হোম পরিচালনার জন্য দায়ী হতে পারে।

অফস্টেডের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে শনাক্ত অবৈধ শিশু কেয়ার হোমের সংখ্যা ২০২০ সালের ১৪৪টি থেকে বেড়ে চলতি বছরে ৭১০টিতে পৌঁছেছে। কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা শিশুদের প্রায় ১০ শতাংশ কোনো সময়ে অনিবন্ধিত স্থাপনায় বসবাস করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অবৈধ কেয়ার হোমের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর করেছে। গত মাসে অফস্টেড প্রথমবারের মতো একটি অনিবন্ধিত শিশু কেয়ার হোম পরিচালনার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনা ঘটিয়েছে।

ক্যাটালিস্ট কেয়ার লিমিটেডকে ৯২ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কেন্টে তিনটি অনিবন্ধিত শিশু কেয়ার হোম পরিচালনা করেছিল। অফস্টেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১.৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি পেয়েছিল।

ডারহামের একটি অবৈধ কেয়ার হোমে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দুই সাবেক সেনাসদস্য নির্যাতন করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দুই ব্যক্তির অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, কিছু প্রতিষ্ঠান কেয়ার বিধিমালার ২৮ দিনের ছুটির নিয়ম ব্যবহার করে শিশুদের দীর্ঘ সময় অনিবন্ধিত স্থাপনায় রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা শিশুরা ২৮ দিন পর্যন্ত অনিবন্ধিত কোনো স্থানে ছুটি কাটাতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ান অন্তত ১১টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে, যারা এ ধরনের ২৮ দিনের সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান দেশের সবচেয়ে বেশি অনিবন্ধিত প্লেসমেন্ট পরিচালনাকারীদের মধ্যে রয়েছে।

অবৈধ প্লেসমেন্টের খরচের একটি বড় উদাহরণ থারক কাউন্সিলের ঘটনা। দুই শিশুকে দুই বছর ধরে একটি অবৈধ প্লেসমেন্টে রাখার জন্য কাউন্সিলটি ডিএমসি কনসালটিং সার্ভিসেসকে ২.৭ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়েছে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কেয়ার ব্যবস্থার মান যাচাই করতে তারা কঠোর পরীক্ষা চালিয়েছে এবং নিয়মিত এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মার্সিসাইডভিত্তিক সেইফস্পেস৪ইউ নামে একটি অনিবন্ধিত শিশু কেয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কেয়ার হোম পরিচালনার অভিযোগে অফস্টেডের ফৌজদারি তদন্ত চলছে।

দ্য গার্ডিয়ান ও টিবিআইজের তদন্তে উঠে আসা তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডে নিবন্ধিত শিশু কেয়ার হোমের ঘাটতি, অনিবন্ধিত স্থাপনার ব্যবহার, সরকারি অর্থের ব্যয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

পার্টিগেট তদন্ত নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মেট পুলিশ

গরমে লন্ডন জুড়ে যত্রতত্র অগ্নিকাণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্য কমেছে যুক্তরাজ্যে