11.7 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে স্কুলের মোবাইল ফোন নীতি শিক্ষক–কর্মীদের ওপর ‘বড় চাপ’—গবেষণা

ইংল্যান্ডের মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবস্থাপনা শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মীদের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে গড়ে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় মোবাইল ফোন নীতি কার্যকর করতে ব্যয় হয়।

 

শিক্ষক, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কেয়ারটেকার ও রিসেপশনিস্টরা শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারের নিয়মাবলী তদারকি, ঘটনার রেকর্ড রাখা, শাস্তিমূলক ক্লাস পরিচালনা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করছেন।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ২০টি স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি কঠোর নীতি অনুসরণ করে যেখানে শিক্ষার্থীদের ফোন পুরো দিন বন্ধ করে ব্যাগে রাখা বা রিসেপশনে জমা দিতে হয়। সাতটি স্কুলে শিথিল নীতি রয়েছে, যেখানে বিরতি ও মধ্যাহ্নভোজের সময় ফোন ব্যবহার অনুমোদিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, কঠোর নীতির স্কুলগুলোতে সপ্তাহে গড়ে ১০২ ঘণ্টা, আর শিথিল নীতির স্কুলগুলোতে ১০৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। এটি যথাক্রমে পূর্ণকালীন ৩.১ ও ৩.৩ জন কর্মীর সমতুল্য এবং শিথিল নীতি শিক্ষার্থীর ওপর বছরে প্রায় ৯৪ পাউন্ড বেশি খরচে ফেলতে পারে।

গবেষক অধ্যাপক ভিক্টোরিয়া গুডইয়ার বলেন, “স্কুল ফোন নীতি—যে নীতিই হোক—স্কুলের জন্য বড় চাপ। শিক্ষকরা ফোন ব্যবস্থাপনায় এত সময় ব্যয় করছেন যে, এটি কল্যাণমূলক কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে।”

প্রতিবেদনটির সহলেখক অধ্যাপক মিরান্ডা প্যালান বলেন, আইনগত নিষেধাজ্ঞা দিলে কিভাবে কর্মীদের উপর চাপ পড়বে তা এখনো অজানা। ফোন জমা রাখা, লকড পাউচ বা পুরো স্কুলে নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন পদ্ধতির প্রভাব আলাদা হবে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়মভঙ্গ ঘটবে, যা মোকাবিলায় সময় ব্যয় হবে।

ডেটা দেখাচ্ছে, প্রাথমিক স্কুলের ৯৯.৯% এবং মাধ্যমিক স্কুলের ৯০% মোবাইল ফোন নীতি অনুসরণ করে। তবুও ৫৮% মাধ্যমিক শিক্ষার্থী কিছু ক্লাসে অনুমতি ছাড়া ফোন ব্যবহার করছে।

NASUWT শিক্ষক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম্যাট র‍্যাক বলেন, “পাঠে বিঘ্ন, মনোযোগ কমা এবং ফোন জমা দিতে বললে সংঘাত—পরিস্থিতি সংকটজনক। সরকার যদি অর্থবহ সহায়তা না দেয়, স্কুল একা এটি সামলাতে পারবে না।”

স্কুল নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, বাবা-মা ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পরিবর্তন হলে এবং ফোন নিষেধাজ্ঞা সাধারণ নিয়মে পরিণত হলে এ চাপ ধীরে ধীরে কমবে। নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা যেমন লকার বা লকড পাউচের জন্য অর্থায়ন সহায়তাও প্রয়োজন।

শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র বলেন, “শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের কোনো স্থান নেই। বিভ্রান্তি না থাকলে শিক্ষার্থীরা ভালো শেখে এবং শিক্ষকরা ভালোভাবে পাঠদান করতে পারেন। আমাদের নির্দেশিকা স্কুলগুলোকে কার্যকরভাবে ফোনমুক্ত নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করে, যাতে তা কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না হয়ে দাঁড়ায়।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে ‘অপরাধের স্বর্গে’ পরিণত করবে সাদিক খানের পরিকল্পনাঃ স্থানীয়দের অভিযোগ

লন্ড‌নের মেয়র প‌দে হ্যাটট্রিক জ‌য়ের প‌থে সা‌দিক খান

ব্রিটেনের প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সম্মানে মুদ্রা উন্মোচন