14.9 C
London
June 2, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিকে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বললো ইসরায়েলি নেতা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চুক্তিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।

লাপিদ অভিযোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন ইসরায়েল আলোচনার টেবিলে থাকার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

ইয়ার লাপিদ তার প্রতিক্রিয়ায় আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে এবং দেশের সাধারণ মানুষও যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে অদম্য ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

লাপিদের ভাষায়, ‘নেতানিয়াহু নিজেই নিজের জন্য যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও তিনি অর্জন করতে পারেননি।’ এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম শেষ হতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় বাকি ছিল।

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহতের মধ্য দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ অঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুই সপ্তাহের সাময়িক বিরতি মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। লাপিদ এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারা মনে করছেন, এই সমঝোতা ইরানকে পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এই চুক্তির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিরক্ষা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ইসলামাবাদের আসন্ন আলোচনার আগে ইসরায়েলের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক দেশটির আগামী দিনের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

জার্মানিতে বৈষম্যের শিকার, তবু আসতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীরা: ওইসিডি

লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়ঃ ইরান

আরব দেশগুলোর আকাশপথ অবরোধে ইসরায়েলের বিপর্যয়ের আশঙ্কাঃ প্রতিবেদন