TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নিজের ভিসা ঝুলে আছে, তবু কর্মী নিয়োগে কঠোর শর্ত; সমালোচনায় স্কটিশ গ্রিনস এমএসপি

স্কটল্যান্ডের গ্রিন পার্টির নবনির্বাচিত এমএসপি কিউ মানিভান্নানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিজেই যুক্তরাজ্যে থাকার এবং কাজ করার আইনি অনুমতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও, নিজের সংসদীয় দপ্তরের জন্য এমন একজন অফিস ম্যানেজার নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, যার অবশ্যই যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার থাকতে হবে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দল একে ‘চরম বিদ্রূপাত্মক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

 

স্কটিশ ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে জন্ম নেওয়া কিউ মানিভান্নান বর্তমানে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে গ্রিন পার্টির তালিকা পদ্ধতিতে এমএসপি নির্বাচিত হলেও, তার বর্তমান স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ চলতি বছরের শেষদিকে শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন ভিসা অনুমোদিত না হলে তার যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকারও শেষ হয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েট ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। এই আবেদন অনুমোদিত হলে তিনি আরও তিন বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তিনি গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার জন্যও আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, যা অনুমোদিত হলে স্কটিশ পার্লামেন্টে পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার সুযোগ মিলতে পারে। তবে এসব আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস।

এর মধ্যেই কিউ মানিভান্নান নিজের ইনস্টাগ্রামে একজন ফুল-টাইম অফিস ম্যানেজার নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। চাকরিটির জন্য বছরে ৪১ হাজার পাউন্ড বেতন, সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীর অবশ্যই যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার থাকতে হবে।

এই শর্ত নিয়েই সমালোচনায় সরব হয়েছে স্কটিশ কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির এমএসপি স্টিফেন কের বলেন, “এখানে যেন এই এমএসপির জন্য এক ধরনের নিয়ম, আর অন্য সবার জন্য আরেক ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য।”

তিনি আরও বলেন, যিনি নিজেই স্টুডেন্ট ভিসায় থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, তিনি অন্যদের জন্য ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ শর্ত আরোপ করছেন—এটি অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক। চাকরিপ্রার্থীদেরও আগে থেকেই জানানো উচিত যে, এমএসপির অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভবিষ্যতে তাদের চাকরিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের পর নিজের অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে কিউ মানিভান্নান কয়েক সপ্তাহ সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। পরে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি অযথা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। অন্যদিকে স্কটিশ গ্রিনসের কয়েকজন নেতা ও কর্মী অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যম অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে।

কিউ মানিভান্নান নিজেকে একজন “তামিল ও অভিবাসী” হিসেবে পরিচয় দেন এবং তিনি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবেও উল্লেখ করেন। তার অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন এখন হোম অফিসের বিবেচনায় রয়েছে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারাতে পারেন, যা তার সংসদীয় দায়িত্ব পালনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে পুরো বিতর্কের বিষয়ে স্কটিশ গ্রিন পার্টি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, দলের কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করে না।

সূত্রঃ স্কটিশ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের হোয়াইটচ্যাপেল মার্কেট গ্রেট ব্রিটিশ মার্কেটস অ্যাওয়ার্ডসে সম্মানিত

‘ট্যাক্স হেভেন’ দেশ বলা হচ্ছে যাদের

যুক্তরাজ্যের ভিসা সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে £৬ মিলিয়ন পাউন্ডের মামলা