17.8 C
London
June 13, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তেঃ বিজয়ের দাবি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এতে স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ঘিরে ইতোমধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানই বিজয়ী হয়েছে এবং এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে দেশটি আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

আরাগচি বলেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় এখনো কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে আলোচনার বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উভয় পক্ষ একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

চুক্তি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি সামনে এনেছিল, সে বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ে পৃথক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্যগুলো অর্জিত হচ্ছে এবং আলোচনাকে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা ও হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে কিছু সময় পরই তিনি জানান, সম্ভাব্য একটি চুক্তির কারণে তিনি হামলার নির্দেশ থেকে সরে এসেছেন। এরপরই সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্বাক্ষর করতে পারেন।

শুধু কূটনৈতিক সূত্রই নয়, মার্কিন কর্মকর্তারাও চলতি সপ্তাহান্তে একটি সমঝোতা স্মারকে সই হওয়ার সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রায়ান জিনকে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় একটি চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

একই ধরনের বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার ওই বক্তব্য পরবর্তীতে শেয়ার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও, যা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাবে। যদিও অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতেই ভূমিকা রাখবে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

চীনের বড় পদক্ষেপঃ ছয় মার্কিন কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা

‘চুক্তি করো, নইলে তেল-অর্থ শূন্য’’—কিউবাকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বাংলাদেশ-নেপালের মতো এবার আন্দোলন শুরু হয়েছে ভারতে