TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে বিমান বদল ট্র‍্যাম্পেরঃ নতুন প্রতিবেদনে বিস্ফোরক দাবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে যাত্রাবিরতির সময় তার বিমান পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও ওই সময় হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত কারণের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন, পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত প্রক্সি বাহিনীর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি “বিশ্বাসযোগ্য হুমকি” শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এরপরই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রথমে কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে সফর করলেও নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ, ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত সামরিকভাবে উন্নত এয়ার ফোর্স ওয়ানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে, যা নতুন বিমানটিতে এখনো সংযোজিত হয়নি।

৮ জুলাই রাতে যুক্তরাজ্যের সাফোকে অবস্থিত RAF Mildenhall সামরিক ঘাঁটিতে উভয় বিমান অবতরণ করে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর ট্রাম্প পুনরায় নতুন কাতারি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন।

তবে ওই সময় ট্রাম্প নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমান পরিবর্তনের দাবি অস্বীকার করে বলেছিলেন, এটি ছিল “পুরোনো দিনের স্মৃতির জন্য” এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নতুন প্রেসিডেন্টের বিমানটি দেখার সুযোগ করে দিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ সেনাদের সঙ্গে নতুন বিমানের সামনে তোলা ছবিও প্রকাশ করেন।

কিন্তু পরবর্তী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমন তথ্য ছিল যে ইরান-সমর্থিত প্রক্সি বাহিনী প্রেসিডেন্টের বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছিল। সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প যে বিমানেই থাকুন না কেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন তিনিই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন যে তিনি নিয়মিত নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকেন। তিনি বলেন, “আমি সব সময়ই হুমকির মধ্যে থাকি। তাদের তালিকায় আমি এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।”

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত এবং তার জীবনের ওপর হামলার চেষ্টা হলে ইরানকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আবার অন্যদিকে আজ হতে ইরানের হামলা বন্ধের ঘোষণাও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রদান করেছেন।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

বলিউড বাদশা শাহরুখ খান বিলিয়নিয়ার ক্লাবে, সম্পদ ছাড়াল ১.৪ বিলিয়ন ডলার

র‍্যাব নিয়ে ডয়চে ভেলের তথ্যচিত্র যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে

ইসরাইলের ‘পক্ষ’ নিয়ে খবর প্রচার করছে রয়টার্স, অভিযোগ সংস্থাটির সাংবাদিকদের