19.5 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে আঘাত করতে না পারলে ভারতকে টার্গেটঃ পাকিস্তানি সাবেক কূটনীতিকের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের সাবেক হাইকমিশনার আবদুল বাসিতের সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের বক্তব্যকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে—এমন একটি কাল্পনিক ‘চরম পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনার সময় আবদুল বাসিত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা সীমিত হলে পাকিস্তানের জন্য ভারতের বড় শহরগুলোকে লক্ষ্য করা একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। তিনি বিশেষভাবে নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ের নাম উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানি টেলিভিশন চ্যানেল এবিএন নিউজে দেওয়া ওই বক্তব্যে বাসিত যুক্তি দেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো পর্যায়ে না থাকলেও ভারত পাকিস্তানের জন্য প্রধান প্রতিপক্ষ। তাই তার বর্ণিত কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ভারতের শহরগুলোকে লক্ষ্য করার কথা তিনি বলেন। একই আলোচনায় তিনি এমন পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম বলেও উল্লেখ করেন।

বাসিত আরও বলেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা মূলত ভারতের কথা মাথায় রেখে গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনার সময় গ্যাবার্ড পাকিস্তানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য সম্ভাব্য হুমকিতে পরিণত হতে পারে। বাসিত ওই মূল্যায়নের সমালোচনা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন।

আবদুল বাসিত ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবদুল বাসিতের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও উঠে এসেছে। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র তুহিন সিনহা আবদুল বাসিতের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগব্যবস্থার ব্যর্থতাকে দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকির বিষয় হিসেবে দেখা হয়। ভারত-পাকিস্তানের মতো দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে এ ধরনের বক্তব্য তাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার আলোচনাকে আবারও সামনে এনেছে।

সূত্রঃ এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া⁠, হিন্দুস্তান টাইমস⁠, ইকোনমিক টাইমস⁠

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্ট্যাচু অব লিবার্টি ফেরত চাইছে ফ্রান্স

অভিবাসন ইস্যুতে মানবাধিকার আদালত নিয়ে ইউরোপে মতভেদ

ভারতে বিক্ষোভের আগুনঃ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মিছিল