11.8 C
London
June 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার শর্তে মমতাকে পুনর্বাসনের প্রস্তাব সোনিয়ার

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতা যখন দিল্লিতে, তখন দিল্লিতেই ভেঙে খানখান হয়ে গেছে মমতার সংসদীয় দল। এমন অবস্থায় গত দুদিন ধরেই দিল্লিতে গুঞ্জন ছিল পুরোনো দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে পারেন মমতা। নিজের হাতে গড়া দল ও দলের সংসদ সদস্য, বিধায়ক, সংগঠন হারিয়ে শুধুমাত্র ভাইয়ের ছেলে অভিষেককে নিয়ে একা হয়ে যাওয়ার মমতাকে পুনর্বাসন করতে পারে কংগ্রেস।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খার্গের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সেরেছেন মমতা। তৃণমূল কংগ্রেসের বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, ইতোমধ্যেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা এবং অভিষেককে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা যেন অবশিষ্ট দলীয় সংগঠন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যান। সেক্ষেত্রে মমতা এবং অভিষেককে জাতীয় স্তরে বড় পদের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। মমতাকে রাহুল-খার্গের ডেপুটি হিসেবে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি এবং অভিষেককে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, মমতাকে সোনিয়া জানান, যেভাবে তৃণমূল ভাঙছে, তাতে আর শেষ রক্ষা সম্ভব নয়। বরং তিনি চলে এলে, কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে কাজ করলে, এখনও সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকরাও কংগ্রেসে চলে আসতে পারবেন। এতে কংগ্রেসের হাত শক্ত হবে। কংগ্রেসের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র বিকল্প তৈরি করা যেতে পারে।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসেই তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা। এরপর কংগ্রেসকে তিলে তিলে ভেঙেই তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করেছিলেন মমতা। এবার মমতার নিজের হাতে গড়া দলের ভাঙ্গনে এক ঘরে হয়ে যাওয়া মমতাকে একপ্রকার পুনর্বাসন দিতে চায় জাতীয় কংগ্রেস।

মমতার এই যোগদানে লাভবান হবে দুই পক্ষই। মমতার পুনর্বাসনে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে অক্সিজেন পাওয়ার আশা দেখছে কংগ্রেস । অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কার্যত দেউলিয়া হয়ে যাওয়া মমতাও কংগ্রেসে যোগদান করলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিবিরোধী অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারবেন।

সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবারের (৯ জুন) বৈঠকে মমতাকে এই প্রস্তাব দেন সোনিয়া গান্ধী। মমতাকে সোনিয়া জানান, যেভাবে তৃণমূল ভাঙছে, তাতে মমতার পক্ষে দল রক্ষা করা সম্ভব নয়। বরং এই অবস্থায় অবশিষ্ট সংগঠন নিয়ে তিনি কংগ্রেসে চলে এলে, কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে কাজ করলে, তার সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকরাও রাজনৈতিক পুনর্বাসন পাবে।

একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে মমতার নাম মুছে যাওয়ার পরিবর্তে নতুন ইনিংস শুরু করতে পারবেন তিনি। এতে কংগ্রেসও উপকৃত হবে। রাজ্যে ধুঁকতে থাকা কংগ্রেসের হাত শক্ত হবে। কংগ্রেসের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র বিকল্প ব্লক তৈরি হবে।

জল্পনা আরও উসকে দিয়ে বুধবার (৯ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন। তবে বৈঠকের ব্যাপারে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। মমতাপন্থি তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

তবে অফ দ্য রেকর্ড দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কংগ্রেসকে শুধু বিপদের দিনে পাশে চাওয়া হয়েছে।’ আবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তারা কংগ্রেসে যাচ্ছেন না। বরং পরিষদীয় দলে আরও হাত শক্ত হচ্ছে তাদের।

তবে এক সময় কংগ্রেসকে ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করা মমতাকে নতুন করে সুযোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র জটিলতা। এক পক্ষ মমতা ও প্রদেশ কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দিয়েছে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। অন্যদিকে আরেক পক্ষ দীর্ঘদিন মমতার যোগদানে ছাড়তে পারে কংগ্রেসের হাত। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের সংগঠন নতুন করে অক্সিজেন পেলেও ভাঙনের মুখে পড়বে এই কথা এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘আমাদের কথা, যে কোনও ব্যক্তি যদি রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী মেনে, কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসেন, তাহলে সবার জন্য দরজা খোলা।’

যদিও প্রদেশ কংগ্রেসের এক সিনিয়র নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আগে যোগদান হোক তারপরে এ বিষয়ে কথা বলব। নর্দমার নোংরা জল পুকুরে, নদীতে কিংবা গঙ্গায় পড়লে গঙ্গার পবিত্র জল নষ্ট করে দেয়। তৃণমূলে এখনও যারা আছে তারা নর্দমার নোংরা জল ছাড়া আর কিছু নয়। ওদের নিয়ে কংগ্রেস কেন নিজের ক্ষতি করবে।’

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউক্রেনে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে চীন

আলোচনা শুরুর আগেই ইরানকে যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলো যুক্তরাষ্ট্র

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকারী জাহাজ লক্ষ্য করে লিবিয়ার গুলি, ব্যাখ্যা চাইবে ইইউ