TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কিউবার ওপর নতুন চাপের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনেরঃ গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবার কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর নতুন করে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। প্রশাসনের পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত দুই সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য কিউবার সরকারকে হয় রাজনৈতিক সংস্কারে বাধ্য করা, নয়তো ক্ষমতার কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে চাপ সৃষ্টি করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র প্রচলিত কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি অন্যান্য বিকল্পও বিবেচনা করছে। এর মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা কিউবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পথে বাধা নয়। ওই সূত্র দাবি করেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে কিউবা বর্তমানে অন্যতম প্রধান পররাষ্ট্রনীতি অগ্রাধিকার।

কিউবান বংশোদ্ভূত মার্কো রুবিও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বর্তমান সরকারের হাতে সংস্কারের সুযোগ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, হাভানা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি প্রকাশিত এক নথিতে কিউবার বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর প্রভাব মোকাবিলায় এটি তাদের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিউবায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, নতুন গোয়েন্দা সম্পদ ও এজেন্ট মোতায়েনের পাশাপাশি সিআইএর উপস্থিতিও জোরদার করা হচ্ছে।

গত মে মাসে সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ কিউবা সফর করে রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানান। এর কয়েক দিনের মধ্যেই মার্কিন বিচার বিভাগ কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ১৯৯৬ সালে সমুদ্রে চারজন কিউবান নির্বাসিতের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ আনে। সে সময় রাউল কাস্ত্রো দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

তবে একই প্রতিবেদনে একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক উপায়কেই অগ্রাধিকার দেন এবং সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে চান।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত এসব তথ্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে সামরিক পদক্ষেপ বা অন্যান্য কৌশল নিয়ে প্রকাশিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

‘ইসরায়েল রক্ষা জরুরি নয়, আগে যুক্তরাষ্ট্র’—পেন্টাগনকে কঠিন বার্তা মার্কিন জেনারেলের

দায়িত্বভার গ্রহণের আগে হতে পারে প্রেসিডেন্ট ট্র‍্যাম্পের সাজা!

নিউজ ডেস্ক

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি