যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের আগ্রহ থেকে পবিত্র কোরআন পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা। কোরআন পড়া শেষ করে তিনি বাবাকে একটি আয়াত পড়তে বলেছিলেন। সম্প্রতি ফ্লোরিডায় একটি আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়ের সেই স্মৃতির কথা তুলে ধরেন বিল ক্লিনটন।
গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির কোইনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষকে হেয় করার প্রবণতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি চেলসির কোরআন পড়ার ঘটনাটি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে আল জাজিরা, আইবিটাইমস ইউকে ও সিয়াসাত ডেইলিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বিল ক্লিনটন বলেন, শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে মানুষকে হেয় করা হচ্ছে—এমন ঘটনা দেখতে দেখতে তিনি ক্লান্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, চেলসি যখন হাইস্কুলের ছাত্রী ছিলেন, তখন কৌতূহল থেকে পুরো পবিত্র কোরআন পড়েছিলেন। এরপর একটি আয়াত বাবাকে দেখিয়ে সেটি পড়তে বলেছিলেন।
বিল ক্লিনটনের বর্ণনা অনুযায়ী, চেলসি তাকে পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতটি পড়তে বলেছিলেন। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা পরস্পরকে চিনতে পারে। আয়াতের শেষাংশে আল্লাহর কাছে মর্যাদার মাপকাঠি হিসেবে তাকওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
চেলসি কেন কোরআন পড়েছিলেন, সে বিষয়ে তার বাবার বর্ণনায় জানার আগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে।
চেলসি ক্লিনটনের জন্ম ১৯৮০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৫ সালে তার বয়স ছিল ১৫ বছর। ওই সময় তার বাবা বিল ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের একমাত্র সন্তান চেলসি সে সময় পরিবারের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বসবাস করতেন।
অনুষ্ঠানে বিল ক্লিনটন বলেন, প্রতিটি ধর্মেই খারাপ মানুষ রয়েছে, কারণ মানুষ হিসেবে সবারই সীমাবদ্ধতা আছে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে বিচার করার প্রবণতার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহাবস্থানের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ক্লিনটনের বক্তব্যে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষের বিরোধিতা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় না করার আহ্বান গুরুত্ব পায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ ও মুসলিমদের নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
চেলসি ক্লিনটন পরবর্তী সময়ে লেখক ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার কিশোর বয়সে কোরআন পড়ার ঘটনাটি বিল ক্লিনটন সম্প্রতি নিজের বক্তব্যে স্মরণ করেন।
সূত্রঃ আল জাজিরা\ আইবিটাইমস ইউকে / সিয়াসাত ডেইলি
এমকে

