বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজার এলাকায় কুকুরকে কুমিরের মুখে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাজারের খাদেম পরিচয়দানকারী মেহেদী হাসান তপু’র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বপ্রণোদিতভাবে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক আজিজ নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে প্রাণী অধিকারকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাজারের পুকুরে থাকা কুমির, যেটিকে স্থানীয়ভাবে “ধলা পাহাড়” নামে ডাকা হয়, তার জন্য একটি কুকুরকে পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে কুকুরটি আর পানির ওপরে উঠে আসতে পারেনি বলে জানা গেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কুমিরটি কুকুরটির গলা কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে আরও বলা হয়, মেহেদী হাসান তপু প্রায় সময়ই জীবন্ত মুরগি, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী কুমিরের খাবার হিসেবে পানিতে নিক্ষেপ করেন। এসব প্রাণী প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব ঘটনার ভিডিও তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে নির্মম ও অমানবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, জীবন্ত প্রাণীকে ইচ্ছাকৃতভাবে হিংস্র প্রাণীর সামনে ফেলে দেওয়া চরম নিষ্ঠুরতা এবং আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রাণী অধিকারকর্মীরা বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তাদের মতে, এমন কর্মকাণ্ড ধর্মীয় বা প্রশাসনিক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এদিকে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া \ বাংলা টিভি
এম.কে

