বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন তুলে ধরার জন্য পরিচিত ব্রিটিশ-নাইজেরীয় ব্যবসায়ী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার ইঘো ‘টাইনি’ উবিরিবোর মৃত্যু হয়েছে থাইল্যান্ডে কসমেটিক চিকিৎসা নেওয়ার পর। ২০২৬ সালের মার্চে ব্যাংককে ছুটি কাটাতে গিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
অনলাইনে তিনি ‘ডেনিসি’ ও ‘ইগো’ নামেও পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর। স্ত্রী ড্যানিয়েল সিম্বা অ্যালেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্যাংককে অবস্থান করছিলেন এবং একটি ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছিলেন।
ভ্রমণের সময় উবিরিবো ব্যক্তিগত বিশেষ অঙ্গ বড় করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে কসমেটিক চিকিৎসা করান। ওই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ মিলিলিটার হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার এবং জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়েছিল।
চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে তারা হোটেলে ফিরে যান। পরে দুজন ম্যাসাজ নিতে গেলে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। ম্যাসাজ চলাকালে উবিরিবো বুকে ব্যথার কথা জানান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তিনি দুবার অচেতন হয়ে পড়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সুখুমভিত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমদিকে তিনি চিকিৎসকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো সচেতন ছিলেন। তার স্ত্রী চিকিৎসকদের জানান, ওই দিনই উবিরিবো কসমেটিক চিকিৎসা করিয়েছিলেন। চিকিৎসকেরা তার অবস্থার কারণ নির্ণয়ের জন্য সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি আবার জ্ঞান হারান।
পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, উবিরিবো পালমোনারি এম্বোলিজমে আক্রান্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় ফুসফুসের রক্তনালিতে বাধা সৃষ্টি হয়ে রক্ত চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং তা জীবনহানির কারণ হতে পারে।
অবস্থা দ্রুত সংকটজনক হয়ে পড়লে তাকে নিবিড় পরিচর্যায় নেওয়া হয়। তাকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকেরা ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সিপিআর চালান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৬ মার্চ ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে করা ময়নাতদন্তে তার ফুসফুসে এমন কোষীয় উপাদান পাওয়া যায়, যা ওই কসমেটিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ফিলারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। যুক্তরাজ্যের করোনার জিন হারকিন আনুষ্ঠানিকভাবে রায় দেন, কসমেটিক চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট পালমোনারি এম্বোলিজমই উবিরিবোর মৃত্যুর কারণ।
ঘটনাটি কসমেটিক চিকিৎসার ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে। চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত অঙ্গ বড় করার মতো কসমেটিক প্রক্রিয়ায় রক্ত জমাটজনিত জটিলতা, সংক্রমণ, অনুভূতি কমে যাওয়া এবং স্থায়ী দাগের মতো গুরুতর ঝুঁকি থাকতে পারে। এসব চিকিৎসায় বিপুল অর্থ খরচ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হয় না এবং প্রভাব কয়েক মাসের মধ্যেই কমে যেতে পারে।
জীবদ্দশায় বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পরিচিত ছিলেন উবিরিবো। মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যও ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। লন্ডনে তাকে সোনালি রঙের একটি বিশেষ কফিনে সমাহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই কফিনটির মূল্য ছিল ৭ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকারও বেশি। তার শেষকৃত্যে নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ডেভিডোর উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উবিরিবোর মৃত্যু কসমেটিক চিকিৎসার নিরাপত্তা এবং বিদেশে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে শরীরে ফিলার প্রয়োগের মতো চিকিৎসায় বিরল হলেও প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হতে পারে—তার মৃত্যুর ঘটনা সেই ঝুঁকিরই ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।
সূত্রঃ টিএমজেড
এম.কে

