গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রে পুলিশ ও আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশি ও মিশরীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আটক ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পালানোর চেষ্টা, পালানো, বিদ্রোহ এবং সম্পদের ক্ষতিসাধনের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিসের সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনি।
ইউরোপভিত্তিক অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্র্যান্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গ্রিসের ক্লিদি আটককেন্দ্রে গত শনিবার পুলিশের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা শেষে আবার আটককেন্দ্রে ফিরেছেন। বাকি দুজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় আটককেন্দ্রটিতে প্রায় ৪৫০ জন আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। তাদের আশ্রয়ের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাদের কয়েকজনকে আবার আটক করা হয়েছে। অন্যদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার মুখে পড়া ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক বলে জানিয়েছে গ্রিসের সংবাদপত্র একাথিমেরিনি। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়; গ্রিসের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ক্লিদি আটককেন্দ্রের পরিবেশ ও ধারণক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি আশ্রয়প্রার্থী রাখা হয় এবং সেখানে বসবাসের পরিস্থিতিও যথাযথ মানের নয়। এর আগেও ওই আটককেন্দ্রে অস্থিরতার ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের পর স্থানীয় পর্যায়ে আটককেন্দ্রটি বন্ধের দাবিও জোরালো হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সোমবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে একটি রেজ্যোলুশন অনুমোদন করেছে।
এদিকে গ্রিসে অভিবাসী আগমনের হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে বলে দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে ইনফোমাইগ্র্যান্টস। গত ১২ মাসে দেশটিতে অভিবাসীদের আগমন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গ্রিসে ৬১ হাজার ১১২ জন অভিবাসী পৌঁছেছিলেন। পরবর্তী ১২ মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৯৯৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগমন কমেছে প্রায় ১৯ হাজার ১১৪ জন।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী থানোস প্লেভরিসও জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতির দিকে এগোচ্ছে গ্রিস। মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে একটি ‘রিটার্ন হাব’ বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সমপদস্থ মন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের ওই ধরনের কেন্দ্রে স্থানান্তর করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।
গ্রিসে আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ এবং আটককেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ দেশটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে সরকার অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর সাফল্যের কথা তুলে ধরছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ, ধারণক্ষমতা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
সূত্রঃ ইনফোমাইগ্র্যান্টস বাংলা\ একাথিমেরিনি/ এএফপি
এম.কে

