TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে ঢোকার হিড়িক, ২২ হাজারের বেশি অভিবাসীর চেষ্টা—সফল ৬৬%

গত সপ্তাহ পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি অভিবাসী ছোট নৌযানে করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই সফলভাবে ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। এ তথ্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানো এবং চ্যানেল পাড়ি বন্ধে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সফল হওয়ায় এ পথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২২ হাজারের বেশি মানুষের ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ জন সফলভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।

ইংলিশ চ্যানেল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হওয়ায় ছোট নৌযানে করে বিপজ্জনকভাবে এটি পাড়ি দেওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিকূল আবহাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী এবং সমুদ্রপথের ঝুঁকির কারণে এসব যাত্রায় প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে।

চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো ব্যক্তিদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই এবং থাকার ব্যবস্থা করতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।

২২ হাজারের বেশি মানুষের চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা এবং তাদের ৬৬ শতাংশের সফলভাবে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—বর্তমান সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট নৌযানে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবে কতটা সফল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

তবে এই পরিসংখ্যানকে আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সংখ্যা হিসেবে দেখা যাবে না। চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো এবং পরবর্তীতে আশ্রয় পাওয়ার বিষয় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। প্রত্যেক ব্যক্তির আবেদন ও অভিবাসন পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।

চ্যানেল পাড়ি বন্ধে যুক্তরাজ্য সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তারপরও বিপুলসংখ্যক মানুষের এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত থাকায় বিষয়টি ব্রিটিশ অভিবাসন নীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউরোপিয়ানরা চলে যাওয়ায় একাকিত্বে এই স্ট্রিবেরি চাষী

ইংল্যান্ডের ফার্স্ট টাইম বায়ারদের জন্য অর্ধেক দামে বাড়ি!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে স্কিলড কর্মী ভিসা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ধর্মীয় গোষ্ঠী ঘিরে অনুসন্ধান