7.2 C
London
January 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ছয় মাসে লন্ডনে অবৈধ কর্মী নিয়োগে £৬.৭ মিলিয়ন জরিমানা, রেস্তোরাঁ খাতেই সর্বোচ্চ ধাক্কা

গত বছরের প্রথম ছয় মাসে লন্ডনের ১১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ কর্মী নিয়োগের দায়ে মোট £৬.৭ মিলিয়নের বেশি জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস।

 

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে পরিচালিত তদন্ত ও অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে এমন কর্মী পাওয়া যায়, যাদের যুক্তরাজ্যে কাজ করার কোনো আইনগত অধিকার ছিল না।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্কটি আগের ছয় মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৯০টি লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রায় £৪.৬ মিলিয়ন জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন পরিসংখ্যান বলছে, সরকারের কঠোর অবস্থান ও অভিযান বৃদ্ধির ফলে জরিমানার পরিমাণ এবং আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা—দুটোই বেড়েছে।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রেস্তোরাঁ ও বার। মোট ১১৭টির মধ্যে ৪৪টি প্রতিষ্ঠান এই খাতের, যা এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সরকার আতিথেয়তা খাতে অভিযান জোরদার করায় রেস্তোরাঁ, পাব ও হোটেলগুলো এখন সবচেয়ে বেশি নজরদারির মুখে। বারবার আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে এসব প্রতিষ্ঠানের মদ পরিবেশন ও দেরি পর্যন্ত খোলা রাখার লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে।

রেস্তোরাঁর পাশাপাশি ছোট দোকান, সুপারমার্কেট, কার ওয়াশ, নেইল বার এবং নির্মাণ কোম্পানিগুলোকেও জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।

হোম অফিস বলছে, অবৈধ কর্মসংস্থান শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি সৎ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্থানীয় শ্রমবাজারে মজুরি কমিয়ে দেয়।
সরকারের নতুন নীতিমালায় শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। গত বছর প্রথমবার ধরা পড়লে প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য জরিমানা £১৫,০০০ থেকে বাড়িয়ে £৪৫,০০০ করা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রতি কর্মী £৬০,০০০ পর্যন্ত।

নটিং হিলের ওয়েস্টবোর্ন গ্রোভে অবস্থিত রেস্তোরাঁ সাদাফ-এর মালিকদের £৪৫,০০০ জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা যথাযথ মজুরি না দিয়ে খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে অবৈধ কর্মী নিয়োগ করেছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাওয়া একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিবাসন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা অভিযান চালান।

কেনসিংটন পার্ক রোডের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ লা মিয়া মাম্মা—যা খাঁটি ইতালীয় খাবারের জন্য পরিচিত এবং স্ট্যানলি টুচ্চির সিএনএন ডকুমেন্টারিতে স্থান পেয়েছিল—সেখানেও অবৈধ কর্মী পাওয়া যায়। সেখানে হন্ডুরাসের এক নারী ও একটি এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিক কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে £৮০,০০০ জরিমানা করা হয়।

এদিকে ক্যামডেনভিত্তিক ফরাসি সেবা প্রতিষ্ঠান সোডেক্সো, যার সঙ্গে হোম অফিস, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচএমআরসির চুক্তি রয়েছে, তাকেও £৫৫,০০০ জরিমানা গুনতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, ক্যাটারিং ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি বাতিল করে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হোম অফিসকে জানানো হয়েছে।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, অবৈধ কর্মসংস্থান সৎ নিয়োগদাতাদের ক্ষতি করে এবং সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধকে উৎসাহিত করে। তিনি জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অভিযান ৭৭ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর ও ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে স্পষ্ট করেছে সরকার।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

চীনা ‘কিল সুইচ’ আতঙ্কঃ ব্রিটেনের সড়কে চলা শত শত বৈদ্যুতিক বাসে নিরাপত্তা ঝুঁকি

লিভারপুলে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক ৩

অনলাইন ডেস্ক

মেটপুলিশে বর্ণবাদ, বিবিসিতে প্রচারের পর বিরূপ পরিস্থিতি