28.5 C
London
July 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জরুরি পরিস্থিতির সতর্কবার্তা ব্রিটেনেঃ খাদ্য-ওষুধ মজুত ও প্রস্তুতির আহ্বান সরকারের

সম্ভাব্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র আবহাওয়া, সাইবার হামলা, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে আগাম সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিটি পরিবারকে পানি, বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগের মতো মৌলিক সেবা ব্যাহত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় দোকান থেকে খাদ্য সংগ্রহ বা অন্যান্য জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধান সচিব ড্যারেন জোন্স পার্লামেন্টে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না। তার ভাষায়, চরম আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ, পানি, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন অপরিহার্য সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার দেশব্যাপী একটি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো নাগরিকদের দুর্যোগ, সাইবার হামলা বা অন্যান্য জাতীয় সংকটের সময় কীভাবে নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, সে বিষয়ে সচেতন করা।

সরকার জাতীয় ঝুঁকির তালিকায় আরও সাতটি নতুন সম্ভাব্য সংকট যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি শক্তির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, তথ্যব্যবস্থা, পানি সরবরাহ অবকাঠামো ও পুলিশ নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা এবং বড় ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বিপর্যয়ের ঝুঁকি।

এদিকে জাতীয় প্রস্তুতি কমিশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাত বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের প্রস্তুতি এখনও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ মজুতের ক্ষেত্রে দেশটি ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

ড্যারেন জোন্স আরও জানান, চলতি বছরের মে মাসে দেশের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়ার পর জুন মাসে সেই রেকর্ড আবার ভেঙে যায়। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তীব্র তাপপ্রবাহ বেড়েছে এবং জুন মাসে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে তিন দিনের তাপপ্রবাহের চূড়ান্ত সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ অপরাধীদের আরও উন্নত সাইবার হামলা চালানোর সুযোগ করে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় প্রতিরক্ষা মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে শত শত কর্মকর্তা অংশ নিয়ে সম্ভাব্য সমন্বিত হামলা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করবেন। পাশাপাশি ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা হবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী লুইস স্যান্ডার-জোন্স বলেছেন, রাশিয়া শুধু ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলের জন্য নয়, যুক্তরাজ্যের জন্যও সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি। তাই যুদ্ধকালীন পরিকল্পনা হালনাগাদ এবং বৃহৎ পরিসরের মহড়ার মাধ্যমে দেশকে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, জাতীয় প্রস্তুতি কমিশনের চেয়ারম্যান লর্ড হ্যারিস সতর্ক করে বলেছেন, খাদ্য, ওষুধ ও কৌশলগত কাঁচামালের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য এখনও ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। বড় ধরনের যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে দেশটি বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে এবং তখন বিদ্যমান সম্পদের একটি বড় অংশ সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণেই সরকার এখন জনগণকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে যেকোনো জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

শরণার্থী হোটেল ঘিরে উত্তেজনা, ক্রলি হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২: চলছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের গাড়ি অর্থায়ন কেলেঙ্কারিঃ এফসিএর ১৮ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ স্কিম ঘোষণা