15.2 C
London
June 8, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে আলোচনায় ড. ইউনূস

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই আলোচনায় অনানুষ্ঠানিকভাবে উঠে এসেছে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনকে সামনে রেখে পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবু সম্ভাব্য নামগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে মূল্যায়ন চলছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি নাম। ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ব্যবসা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক মহলে তাকে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি, বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরামে সক্রিয় উপস্থিতি এবং উন্নয়নবিষয়ক দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ড. ইউনূসকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় দেখা অস্বাভাবিক নয়। তবে আলোচনায় নাম থাকা এবং বাস্তবে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় বলেও তারা উল্লেখ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অলিখিত আঞ্চলিক রোটেশন নীতি। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি মুন এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আন্তোনিও গুতেরেস।

এই প্রেক্ষাপটে অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এবার আফ্রিকা অথবা লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে এশিয়া অঞ্চল থেকে কোনো প্রার্থীর জন্য প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কোনো একটি দেশও ভেটো দিলে প্রার্থীর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ঐকমত্য অর্জনও একটি বড় শর্ত।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আঞ্চলিক ভারসাম্য, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রধান শক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সব মিলিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। তবে তার নামকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। আগামী মাসগুলোতে বিভিন্ন দেশের অবস্থান, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপরই নির্ভর করবে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র।

সূত্রঃ বাংলাদেশ টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ হতে বিদেশগামীদের জন্য আসছে সুখবর

নিউজ ডেস্ক

ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াতকে স্বরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে পাট ও বস্ত্রে

খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন ৭ জানুয়ারি

নিউজ ডেস্ক