30.4 C
London
August 3, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জ্বালানির দাম বাড়তেই ইউকে পাম্প থেকে চুরি বৃদ্ধিঃ উদ্বেগে খুচরা বিক্রেতারা

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে যুক্তরাজ্যে। দেশটির পেট্রোল পাম্পগুলো থেকে মূল্য পরিশোধ না করে জ্বালানি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সর্বশেষ এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড মূল্যের জ্বালানি চুরি হচ্ছে।

জ্বালানি চুরি প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফোরকোর্ট আই–এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরবর্তী পাঁচ মাসে জ্বালানির মূল্য পরিশোধ না করার ঘটনা আগের পাঁচ মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চুরি হওয়া জ্বালানির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত বেড়েছে। একই সময়ে চুরি হওয়া জ্বালানির মোট মূল্য ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। এই হিসাব যুক্তরাজ্যের আট হাজার ৩৫৯টি পেট্রোল পাম্পের প্রতিনিধিত্বকারী ৫৫০টি পাম্পের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো জ্বালানি চুরির ঘটনায় জড়িতদের সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে তারা যে পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে পালিয়েছে, তা বেড়েছে ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, আগেও একই ধরনের অপরাধে জড়িতদের ক্ষেত্রে ঘটনাসংখ্যা বেড়েছে ১৭ শতাংশ এবং চুরি হওয়া জ্বালানির পরিমাণ বেড়েছে ২০ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যানে দুটি ধরনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটিতে চালক কোনো অর্থ পরিশোধের চেষ্টা না করেই জ্বালানি নিয়ে চলে যান। অন্যটিতে চালক জ্বালানি নেওয়ার পর দাবি করেন, তার কাছে অর্থ পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা নেই।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় মূল্য ১৬০ পেন্সে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ২৭ পেন্স বেশি এবং গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে ডিজেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ১৭৯ পেন্স, যা আগের তুলনায় ৩৭ পেন্স বেশি।

ফোরকোর্ট আই–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশেল হেনশোজ বলেন, জ্বালানি চুরি এখন আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। তাই পাম্প পরিচালনাকারীদের নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।

এ লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি অপরাধ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফেসওয়াচ–এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি চুরি, দোকানে অপরাধ এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড দ্রুত নথিভুক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি পরিচিত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সরাসরি মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যাবে।

এদিকে, পেট্রোল খুচরা বিক্রেতা সমিতি–এর নির্বাহী পরিচালক গর্ডন বালমার বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অনেক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এর ফলে পাম্পের কর্মীরা অযথা অপমান ও আগ্রাসী আচরণের শিকার হচ্ছেন, যদিও মূল্য নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

অন্যদিকে, পাঁচটি পেট্রোল পাম্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লরেন্স গ্যারেজেস–এর পরিচালক বেন লরেন্স বলেন, আগে জ্বালানি চুরি মূলত সংঘবদ্ধ অপরাধীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা সব পাম্পই সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। বাস্তবে এসবের অনেকগুলোই ছোট স্বাধীন ব্যবসায়ীদের পরিচালনায়। ফলে মূল্য পরিশোধ না করার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত ছোট ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হয়।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিবাসন-আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে আরও কঠোর হচ্ছে ইউরোপ

দাসপ্রথায় ক্রাউনের ভূমিকা প্রকাশঃ রাজা চার্লসের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার জোরালো দাবি

ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসী দিয়ে মাদক উৎপাদনঃ ধরা পড়ল ক্যানাবিস ফার্ম