ব্রিটিশ কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনের রাশিয়া সফর নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের বাবা এরল মাস্ক। তিনি দাবি করেছেন, টমি রবিনসনকে তিনিই রাশিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সফরের ব্যয় বহন করেছে মাস্ক ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মস্কো সফরের সময় রবিনসনকে নিয়ে রুশ ব্যবসায়ী মহলের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে একাধিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরল মাস্ক বলেন, টমি রবিনসনের রাশিয়া সফরের ব্যবস্থা তিনি নিজেই করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের অর্থায়ন করেছে মাস্ক ফাউন্ডেশন, যা ইলন মাস্ক ও তার ভাই কিমবল মাস্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে এই দাবির বিষয়ে ইলন মাস্ক বা মাস্ক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
টমি রবিনসনের প্রকৃত নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন। গত মাসে তিনি মস্কো থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনার পর সমর্থকদের অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সময়ে তিনি মস্কোর একটি বিলাসবহুল হোটেলে এরল মাস্কের সঙ্গে নিজের ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
রবিনসনের এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক জোরদারের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। একই সময়ে বিতর্কিত অনলাইন ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাইও রাশিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং রুশ সামরিক সদস্যদের উপস্থিতিতে অস্ত্র চালানো ও ট্যাঙ্কে চড়ার ভিডিও প্রকাশ করেন।
রাশিয়া সফর শেষে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর ব্রিটিশ পুলিশ রবিনসনকে থামিয়ে তার মোবাইল ফোন জব্দ করে। যদিও তিনি অতীতেও রাশিয়া সফর করেছেন, তবে এবার তাকে প্রকাশ্যে রাশিয়ার প্রশংসা করতে দেখা যায়। তিনি ব্রিটিশ কিশোর হেনরি নোয়াকের স্মরণে রুশ উগ্র জাতীয়তাবাদীদের একটি সমাবেশের ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন।
এরল মাস্ক রবিনসনকে “একজন ভালো তরুণ” বলে উল্লেখ করে বলেন, তার মেজাজ উত্তপ্ত হলেও তিনি শিখছেন। তিনি আরও জানান, রুশ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাশিয়ায় জন্মহার হ্রাসের মতো বিষয়ও আলোচনায় এসেছে এবং রবিনসন এসব আলোচনায় আগ্রহ নিয়ে অংশ নিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এরল মাস্ক অতীতেও একাধিকবার রাশিয়া সফর করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে রাশিয়ার প্রতি সমর্থনসূচক অবস্থান নিয়েছেন।
এরল মাস্ক জানান, আদালত অবমাননার মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই টমি রবিনসনের সঙ্গে তার পরিচয়। পরে ব্রিটিশ টেলিভিশনে রবিনসন সম্পর্কে মতামত দেওয়ার পর তিনি তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন।
অন্যদিকে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে গবেষক অধ্যাপক স্টিফেন লেভানডভস্কি মনে করেন, এই সফরগুলোকে রাশিয়ার পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’-এর প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, পশ্চিমা গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারে—এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে। একই সঙ্গে কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আদর্শগত মিলও দেখা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চলতি বছরের শুরুতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন-ঘনিষ্ঠ এক ধনকুবেরের উদ্যোগে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কট্টর জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোর এক সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের একটি ডানপন্থী সংগঠনের নেতা বক্তব্য দেন। ওই সম্মেলনে অংশ নেন দীর্ঘদিনের কট্টর ডানপন্থী কর্মী এবং ‘প্যাট্রিয়টিক অল্টারনেটিভ’-এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক কোলেটও।
এদিকে এরল মাস্কের এই দাবি নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে টমি রবিনসনের রাশিয়া সফরের অর্থায়ন নিয়ে করা তার বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

