TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

টিকটকের বড় অভিযানঃ বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের প্রায় দেড় কোটি ভিডিও ডিলিট

বাংলাদেশ থেকে আপলোড করা প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ভিডিও মুছে ফেলেছে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন—মাত্র তিন মাসে প্ল্যাটফর্মটির কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব ভিডিও সরানো হয়েছে। টিকটকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আপলোড করা মোট ভিডিওর প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ মুছে ফেলা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত টিকটকের সর্বশেষ ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে’ এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশ থেকে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে। কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

টিকটকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলা ভিডিওগুলোর ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ বা রিপোর্ট পাওয়ার আগেই শনাক্ত করে সরানো হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো ব্যবহারকারী আপত্তিকর ভিডিও সম্পর্কে অভিযোগ জানানোর আগেই প্ল্যাটফর্মটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অধিকাংশ কনটেন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

ভিডিও অপসারণের গতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া ভিডিওগুলোর ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুছে ফেলা হয়েছে। এর অর্থ, আপলোডের পরপরই নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে নজরদারি জোরদার করেছে টিকটক।

তবে মুছে ফেলা সব ভিডিওর বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত থাকেনি। ব্যবহারকারীদের আপিল এবং পরবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অপসারণের পরও যেসব ভিডিও পুনর্বিবেচনায় নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি বলে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো পুনরায় প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, একই সময়ে বিশ্বজুড়েও বিপুলসংখ্যক ভিডিও অপসারণ করেছে টিকটক। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী মোট ১৮ কোটি ৮৩ লাখের বেশি ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে। এসব ভিডিও ছিল ওই সময়ে প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে ভিডিও অপসারণের হার ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যা বৈশ্বিক হারের চেয়ে বেশি।

টিকটকের নীতিমালা অনুযায়ী, অশ্লীলতা, সংবেদনশীল ও আপত্তিকর বিষয়বস্তু, কমিউনিটি গাইডলাইনসের পরিপন্থি কনটেন্ট এবং বিভ্রান্তিকর উপায়ে সম্পাদিত বিভিন্ন ভিডিও অপসারণের আওতায় আসে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি এমন কিছু কনটেন্টও সরানো হয়েছে, যেগুলো প্ল্যাটফর্মটির নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। তবে এআই দিয়ে তৈরি সব ভিডিওই যে নিষিদ্ধ, বিষয়টি এমন নয়; মূল বিবেচনা হলো সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট নীতিমালা ভঙ্গ করেছে কি না।

ভিডিওর পাশাপাশি মন্তব্য বা কমেন্টের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই তিন মাসে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখের বেশি কমেন্ট মুছে ফেলেছে টিকটক। আগের প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ। অর্থাৎ, এক প্রান্তিকের ব্যবধানে অপসারিত কমেন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ ছাড়া ভুয়া ও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ২ কোটি ৬৮ লাখ সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট অপসারণ করা হয়েছে, যেগুলো ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীরা পরিচালনা করছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছে। টিকটকের নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণভাবে ১৩ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি নেই।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক ভিডিও, মন্তব্য ও অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকটকের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অনুপযুক্ত কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা, ভুয়া অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং আপত্তিকর ভিডিওর বিস্তার ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে।

বাংলাদেশ থেকে মাত্র তিন মাসে প্রায় দেড় কোটি ভিডিও অপসারণের পরিসংখ্যান দেশটিতে টিকটকের বিপুল কনটেন্ট কার্যক্রম এবং প্ল্যাটফর্মটির নীতিমালা বাস্তবায়নের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।

সূত্রঃ টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট

এমকে

আরো পড়ুন

কার নির্দেশে ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানো হয়েছে, জানালেন সাবেক আইজিপি

শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ উদ্বোধন

‘নির্বাচনী স্বার্থে উগ্র ডানপন্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে’—ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলমের অভিযোগ