18.3 C
London
May 26, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে অপসারণ করা হবে? বেটিং বাজারে চড়ছে বাজি

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম মনে করেন, তাহলে তাকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

ইরান যুদ্ধে ‘ব্যর্থতা’, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংলগ্ন আচরণসহ নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তার নিজ দেশেই প্রবল সমালোচনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বেটিং বাজারে।

বিশেষ করে নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গত রোববার দেওয়া পোস্টে ইরানের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের চরম অপমানজনক ও অকথ্য ভাষায় হুমকির পর আরো তীব্র হয়েছে সমালোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী নিউজউইকে এক প্রতিবেদনে বলেছে, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পকে অপসারণ করা হতে পারে–এমন সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে বেটিং বাজারে।

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম মনে করেন, তাহলে তাকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জটিল এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে অপসারণে এটি ব্যবহার করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম ‘কালশি’র ব্যবসা চলতি সপ্তাহে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে ব্যবহারকারীরা বাজি ধরছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার পদে অনুপযুক্ত ঘোষণার জন্য মন্ত্র্রিপরিষদ পর্যায়ের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে কি না।

এমন এক সময় ট্রাম্পকে অপসারণ নিয়ে বাজির পরিমাণ বাড়ছে, যখন ইরান যুদ্ধ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে এবং সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজউইক লিখেছে, প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারে সামান্য নড়াচড়াও রাজনৈতিক বয়ান, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং সরকারের নির্বাহী শাখার ভেতরে স্থিতিশীলতা সম্পর্কে জনগণের ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে।

যদিও এই মার্কেটগুলো নিশ্চিতভাবে কোনো বিষয়ে ফলাফলের পূর্বাভাস দেয় না। তবে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রায়ই জনআকাঙ্ক্ষার সমসাময়িক বা তাৎক্ষণিক পরিবর্তনগুলোর প্রতিফলন ঘটে বলে মনে করা হয়।

তবে সমালোচকরা বলেন, কালশির মত প্ল্যাটফর্মগুলো বিভিন্ন জল্পনা থেকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিয়ে রাজনৈতিক আতঙ্ক বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে এর সমর্থকরা মনে করেন, অনিশ্চয়তার সময়ে এই বাজারগুলো জনগণের প্রত্যাশার একটি স্বচ্ছ ও তাৎক্ষণিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

কালশিতে এখন ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কি ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করা হবে?’ শিরোনামে একটি বাজির ঘর রাখা হয়েছে। যেখানে ট্রেডাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শেয়ার কিনতে পারেন।

গত এক মাসে এ বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের দাম ২৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

কালশির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ১৫ শতাংশ দিয়ে শুরু হয়েছিল।

মূলত ট্রাম্পের বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে বেটিং বাজারে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টগুলো; যেখানে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন তিনি।

এছাড়া গত রোববার ইস্টার সানডেতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় একটি পোস্ট দেন।

তিনি লেখেন, “মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস—সব একসাথে, ইরানে। এর মত কিছু আর হবে না!!! ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও পাগল বেজন্মার দল, নইলে নরকে বাস করতে হবে—দেখে নিও! সকল প্রশংসা আল্লাহর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।”

এই পোস্টের পর থেকেই ট্রাম্পের ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের ওই পোস্টকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদকে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্রঃ নিউজউইক

এম.কে

আরো পড়ুন

ফ্রান্সের মুসলিম নেতাদের ১৫ দিনের আলটিমেটাম

অনলাইন ডেস্ক

হোয়াইট হাউসে ঈদ উৎসব, শোনা গেলো কোরআন তেলাওয়াত

ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার রদবদল না হওয়া পর্যন্ত আমরাই দেশটি চালাবঃ ট্রাম্প