যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান দল। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রায় সবকটিতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও কানসাসে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর এবং কানসাসে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি।
জরিপ অনুযায়ী, কানসাস, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আলাস্কায় ব্যবধান সামান্য, আর আইওয়ায় দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। মিশিগানেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল–সাইয়েদ তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে দলীয় বিরোধের কারণে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন করায় সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের অন্তত চারটি আসন দখল করতে হবে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাতটি অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য ভোটারদের মাত্র ৩৮ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হতাশা রিপাবলিকানদের পিছিয়ে দিচ্ছে।
সিনেট হারলে ট্রাম্পের কী কী সমস্যা হবে?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রথমত, গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং করসংক্রান্ত নীতিতে ডেমোক্র্যাটদের বাধার মুখে পড়তে হবে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও বিচারপতি নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় এসব নিয়োগ আটকে দিতে বা বিলম্বিত করতে পারবে বিরোধীরা।
এ ছাড়া সিনেটের বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি ও নথি তলব বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনের নীতি, সরকারি ব্যয় ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়বে। অভিশংসন প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি পরিষদ অভিযোগ উত্থাপন করতে পারলেও সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ছাড়া ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়। ফলে সিনেট হারালেই প্রেসিডেন্টের পদ হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে না, তবে তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আইন বাস্তবায়নের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি বাস্তব নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হলে ট্রাম্পের জন্য তা হবে বড় রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। কারণ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় সাধারণত প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সূত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনমত জরিপ,
এমকে

