TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

তরুণ বেকারত্ব কমাতে যুক্তরাজ্যে বড় উদ্যোগঃ বছরে ১০ হাজার ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্সের সুযোগ

যুক্তরাজ্যে তরুণদের বেকারত্ব মোকাবিলায় আগামী এক বছরে প্রায় ১০ হাজার কর্ম-অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেইন্সবারিজ। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন সব এলাকার তরুণদের, যেখানে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তারা তুলনামূলক বেশি বাধার মুখে পড়েন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, জীবনবৃত্তান্ত উন্নত করা এবং চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মজীবনে প্রবেশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনই এর মূল লক্ষ্য।

তবে ঘোষিত ১০ হাজার সুযোগকে ১০ হাজার স্থায়ী চাকরি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো মূলত কর্ম-অভিজ্ঞতা ও চাকরির জন্য প্রস্তুতিমূলক সুযোগ। অর্থাৎ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক তরুণের জন্য স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তরুণ বেকারত্বকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। সেইন্সবারিজের উদ্যোগকে সামনে রেখে তিনি অন্যান্য বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও একইভাবে তরুণদের জন্য কর্ম-অভিজ্ঞতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও কর্মসূচিটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্ম-অভিজ্ঞতা একজন তরুণের কর্মজীবনে প্রবেশের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তরুণ বেকারত্ব মোকাবিলাকে তিনি নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন।

সাদিক খান তার নিজের কর্মজীবনের শুরুর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তার প্রথম কর্ম-অভিজ্ঞতা ছিল খুচরা বিক্রয় খাতে। তার মতে, কর্মক্ষেত্রে এমন প্রাথমিক অভিজ্ঞতা তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটের ব্যাপকতা বোঝা যায় সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১০ লাখের বেশি তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক তরুণকে কর্মজীবনের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে অভিজ্ঞতার অভাব অনেক তরুণের জন্য চাকরি পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কর্ম-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং পেশাগত আচরণ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

সরকারের পরিকল্পনা হলো, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়িয়ে তরুণদের জন্য এমন সুযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত করা। বিশেষ করে যেসব তরুণ সামাজিক বা অর্থনৈতিক কারণে চাকরির বাজারে প্রবেশে পিছিয়ে পড়ছেন, তাদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেইন্সবারিজের ঘোষণাকে তাই যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ১০ লাখের বেশি তরুণ যখন শিক্ষা, চাকরি ও প্রশিক্ষণের বাইরে, তখন সংকট মোকাবিলায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এখন বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বার্নহ্যামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একই ধরনের সুযোগ তৈরি করে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে এ মাসে কার্যকর হওয়া নতুন আইনগুলো

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে বাসভাড়া, বিদ্যুত বিল কমছেঃ অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন পরিবহন নীতিতে স্বস্তির বার্তা

সাইফুজ্জামানের সম্পদ জব্দ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ এমপির চিঠি