TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটেনের সবচেয়ে নিরাপদ ১৯টি স্থানঃ ঝুঁকিতে একটি এলাকা

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিকদের তিন দিনের প্রয়োজনীয় খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জাম মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটেন সরকার। অন্যদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধ বা বড় ধরনের সংকটের পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ থাকতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিহাসবিদ ও লেখক ডেভিড সুইফট সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের রিভার ক্লাইড এলাকাকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

এর প্রধান কারণ, এই এলাকার কাছেই অবস্থিত ব্রিটেনের পারমাণবিক সাবমেরিন ঘাঁটি এইচএমএনবি ক্লাইড। গ্যার লক এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটিতে ট্রাইডেন্ট পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী ব্রিটিশ সাবমেরিন অবস্থান করে।

ডেভিড সুইফটের মতে, সম্ভাব্য যুদ্ধের সময় বড় শহর, সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো থেকে দূরে গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করা তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ব্রিটেনের জ্বালানি ও ইন্টারনেট অবকাঠামো নাশকতার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই এমন জায়গায় থাকা ভালো, যেখানে নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ বা গ্যাস নেটওয়ার্কের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় না।

জরুরি পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন এই ইতিহাসবিদ। উদাহরণ হিসেবে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের কথা উল্লেখ করেন। সেখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাড়িতে তাপ ও জ্বালানির জন্য তেলচালিত হিটিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। ফলে এসব বাড়ি জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নয়। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।

এদিকে, সম্পত্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইমুভ ২০১৭ সালে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্রিটেনের ১৯টি শহর ও এলাকার একটি তালিকা তৈরি করেছিল। বড় শহরগুলোতে হামলা হলে এসব স্থান তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণপ্রবণ এলাকা থেকে তুলনামূলক দূরে থাকতে পারে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়।

তালিকায় রয়েছে কর্নওয়াল, ওয়েমাউথ, ফোকস্টোন, ডোভার, মারগেট, ক্ল্যাকটন-অন-সি, ফেলিক্সস্টো, ব্রিক্সওয়ার্থ, বিডেফোর্ড, অ্যাবেরিস্টউইথ, স্কেগনেস, আইল অব অ্যাংলেসি, ব্যারো-ইন-ফারনেস, ল্যাঙ্কাস্টার, হুইটবি, কার্লাইল, ডামফ্রিস, বারউইক-আপন-টুইড এবং ইনভারনেস।

তবে বিশেষজ্ঞদের এই মূল্যায়ন এবং ২০১৭ সালের তালিকাকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিশ্চিত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সম্ভাব্য হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু, বিস্ফোরণের মাত্রা এবং তেজস্ক্রিয়তার বিস্তার অনুযায়ী যেকোনো এলাকার ঝুঁকি পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এমকে

আরো পড়ুন

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বৃহত্তম মার্কিন রণতরি ‘জেরাল্ড ফোর্ড’

বাংলাদেশ-নেপালের মতো এবার আন্দোলন শুরু হয়েছে ভারতে

‘ফ্রান্স জ্বলছে’, অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের