13 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ধানবীজে যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরিঃ বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর সিরিঞ্জ ছাড়াই ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের ধানবীজের ভেতর যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরিতে সফল হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ। দীর্ঘদিন ধরে ধান নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ধান নিয়ে গবেষণা করছেন।

ধানের বীজের ভেতর যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরির এই পদ্ধতি এডিবল ভ্যাকসিন বা খাওয়ার উপযোগী ভ্যাকসিন প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত সিরিঞ্জভিত্তিক ভ্যাকসিনের তুলনায় এ ধরনের ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কম খরচের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রচলিত ভ্যাকসিনের মতো সবসময় হিমাগার ব্যবস্থার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

এই বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি কাজে লাগানো যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন হিমাগার বা কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণায় ধানের ভেতর তৈরি হওয়া যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন ইঁদুরকে খাইয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ইঁদুরের শরীরে এই অ্যান্টিজেন গ্রহণের পর যক্ষা ও কলেরার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

অর্থাৎ প্রাণী পর্যায়ের পরীক্ষায় ধানে উৎপাদিত অ্যান্টিজেন ইঁদুরের রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরিতে সক্ষম হয়েছে বলে গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। তবে এই গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

এখনও মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে মানুষের জন্য এটি ব্যবহারযোগ্য ভ্যাকসিন হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। মানবদেহে পরীক্ষার পর এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় মাত্রা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

গবেষণায় তৈরি এই ধান সাধারণ খাবার হিসেবে নিয়মিত খাওয়ার জন্য নয়। নির্দিষ্ট মাত্রা বা ডোজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিমাণ ধান থেকে ভাত রান্না করে খাওয়ানোর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ খাদ্য হিসেবে এই ধান ইচ্ছেমতো খাওয়ার বিষয়টি গবেষণার উদ্দেশ্য নয়।

এ ধরনের প্রযুক্তিতে উদ্ভিদের বীজকে নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন তৈরির বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধানের বীজের মধ্যে অ্যান্টিজেন উৎপাদনের ফলে ভ্যাকসিনের উপাদানকে খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ধান সহজলভ্য এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান উৎপাদিত হওয়ায় এই গবেষণার মূল উপাদান হিসেবে ধানকে ব্যবহার করা হয়েছে। ড. জেবা ইসলাম সিরাজ দীর্ঘ সময় ধরে ধান নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং এই গবেষণায় ধানবীজের মধ্যে যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছেন।

তবে গবেষণাটি এখনো মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই মানুষের জন্য এডিবল ভ্যাকসিন হিসেবে এটি কবে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।

সূত্রঃ বিজ্ঞানপ্রিয় — ড. জেবা ইসলাম সিরাজের ধানবীজে যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরির গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারত ও আ.লীগের রাজনীতি, নিয়ে সোহেল তাজের, বিস্ফোরক মন্তব্য

নিউ সুপার মার্কেটে আগুন: দূরদূরান্ত হতে ক্রেতারা এসে বিপাকে

বাংলাদেশের সবাই মানুষ, কোনো সংখ্যালঘু নাই: মেজর জেনারেল মাসীহুর