TV3 BANGLA
আমেরিকা

নারীরা বিরোধিতা করলেই আক্রমণাত্মক ট্রাম্পঃ সুইফট-গ্রিনদের ঘটনায় উঠছে প্রশ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন নারীর প্রকাশ্য বিরোধ এবং তাদের সমালোচনার পর তার তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্য ডেইলি বিস্টের পডকাস্টের সাম্প্রতিক এক পর্বে পডকাস্টার জেনিফার ওয়েলচ, লেখক নেল স্কোভেল এবং দ্য ডেইলি বিস্টের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা জোয়ানা কোলস বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

আলোচনায় বক্তারা দাবি করেন, যেসব নারী ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যান করেন, প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেন কিংবা তার রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করেন, তাদের প্রতি ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। তাদের মতে, এর পেছনে ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ এবং জনসম্মুখে নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে তার সংবেদনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেনিফার ওয়েলচের মতে, ট্রাম্পের নারী সমালোচকদের মধ্যে পারস্পরিক মিল খুব বেশি না থাকলেও একটি বিষয় তাদের একত্র করে। তার দাবি, এসব নারী ট্রাম্পকে এমন একটি আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেন, যেখানে তিনি নিজের সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য প্রকাশ পায়।

ওয়েলচ এই পরিস্থিতিকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নার্সিসিস্টিক ইনজুরি’ বা আত্মমুগ্ধ ব্যক্তিত্বের আত্মমর্যাদায় আঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের আঘাতের পর একজন ব্যক্তি প্রতিশোধমূলক বা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারেন। তবে এটি আলোচকদের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা; ট্রাম্পের কোনো আনুষ্ঠানিক মনস্তাত্ত্বিক রোগ নির্ণয় হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ক্ষেত্রে আলোচনায় অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফটের নাম। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সুইফট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্য ডেইলি বিস্টের আলোচনায় এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সুইফটের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো নারীদের সবাই যে একই রাজনৈতিক অবস্থানের, তা নয়। মার্জরি টেইলর গ্রিন এর একটি বড় উদাহরণ। একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত গ্রিন পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তার অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং তার সঙ্গে মতপার্থক্যে জড়িয়ে পড়েন।

রোজি ও’ডনেলের সঙ্গেও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে ‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানে ও’ডনেলের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।

পডকাস্ট আলোচনায় লেখক নেল স্কোভেল ট্রাম্পের নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজের আকর্ষণীয়তা সম্পর্কে তার ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অতীত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, নারীরা তাকে কীভাবে দেখেন—এ বিষয়ে ট্রাম্পের নিজের ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

জেনিফার ওয়েলচ এ প্রসঙ্গে আরও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প নিজের প্রতিচ্ছবি সম্পর্কে এমন একটি উচ্চ ধারণা পোষণ করেন যে তিনি মনে করেন অন্য নারীদেরও স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথা।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে নারীদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক শুধু তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিনোদন জগতের নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের ভেতর থেকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নারী কর্মকর্তা বিদায় নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নারী কর্মকর্তা তাদের পদ ছেড়েছেন। এর মধ্যে সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম, সাবেক শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডিরেমার এবং সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড রয়েছেন।

তবে এসব কর্মকর্তার প্রত্যেকের বিদায়ের কারণ এক নয়। উদাহরণ হিসেবে ক্যারোলিন লেভিট নিজেই জানিয়েছিলেন, সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর প্রয়োজন থেকেই তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে পাম বন্ডি, ক্রিস্টি নোয়েম ও লরি শ্যাভেজ-ডিরেমারের বিদায়ের পেছনে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা বিতর্কের মতো ভিন্ন ভিন্ন কারণ ছিল। তুলসি গ্যাবার্ডও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের কথা জানিয়েছিলেন।

ফলে প্রশাসন থেকে একাধিক নারী কর্মকর্তার বিদায়কে সরাসরি ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষ বা নারীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংঘাতের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। বরং দ্য ডেইলি বিস্টের পডকাস্টে আলোচকরা এসব ঘটনা এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধগুলোকে তার ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতার রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন।

দ্য ডেইলি বিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনে সামগ্রিকভাবেই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের আগস্ট ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শীর্ষ পর্যায়ের ‘এ টিম’-এর ৫৪ শতাংশ সদস্যের মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে।

সব মিলিয়ে, টেইলর সুইফট, মার্জরি টেইলর গ্রিন কিংবা রোজি ও’ডনেলের মতো ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের নারীদের সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘাতকে কেন্দ্র করে একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে—ক্ষমতাধর একজন পুরুষ যখন কোনো নারীকে নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেন, তখন তার প্রতিক্রিয়ার পেছনে ব্যক্তিগত অহম, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং জনসম্মুখের ভাবমূর্তি কতটা কাজ করে?

দ্য ডেইলি বিস্টের আলোচকদের ব্যাখ্যায়, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি বিস্ট, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন প্রতিবেদন

এম.কে

আরো পড়ুন

বিদেশিদের জন্য বাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে কানাডা

অনলাইন ডেস্ক

বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদির ওপর হামলা

অনলাইন ডেস্ক

টেক্সাসে লরির ভেতরে ৪৬ মরদেহ