22.7 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘নিয়ম মেনে ব্রিটেনে এসেছেন অভিবাসীরা’, কেয়ার কর্মীদের সেটেলমেন্টের পক্ষে ৮০ এমপি

ব্রিটেনে সামাজিক সেবা খাতের কর্মী সংকটের মধ্যে অভিবাসী পরিচর্যা কর্মীদের ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন বা স্থায়ী বসবাসের বর্তমান পথ বহাল রাখার দাবি জোরালো হয়েছে। লেবার পার্টির এমপি নীল ডানকান-জর্ডান জানিয়েছেন, তার উত্থাপিত পার্লামেন্টারি মোশনে ইতোমধ্যে ৮০ জন এমপি স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে ৪০ জনের বেশি লেবার এমপি রয়েছেন।

ডানকান-জর্ডানের বক্তব্য অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীদের জন্য বর্তমানে যে পথে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটি বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই মোশনে। তিনি সতর্ক করেছেন, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা বাড়ানো হলে সামাজিক সেবা খাতের বিদ্যমান কর্মী সংকট আরও জটিল হতে পারে।

ব্রিটেনে সামাজিক সেবা খাতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ডানকান-জর্ডান। তার দাবি, যারা ইতোমধ্যে এই খাতে কাজ করছেন, তাদের যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়ার পথ কঠিন করে এই কর্মী ঘাটতি কমানো সম্ভব নয়।

বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের জন্য পাঁচ বছরের যোগ্যতার সময়সীমা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘লো স্কিলড’ বা কম দক্ষ হিসেবে চিহ্নিত কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে বলে ডানকান-জর্ডান উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা সামাজিক সেবা খাতের সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে পরিচর্যা খাতে কাজ করা অভিবাসী কর্মীদের অবস্থান আরও অনিশ্চিত হলে কর্মী সংকট কমার পরিবর্তে তা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ডানকান-জর্ডান বলেন, পরিচর্যা খাতের পাশাপাশি পরিবহন ও চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও বিদেশ থেকে আসা কর্মীরা সরকারের নিয়ম মেনে যুক্তরাজ্যে কাজ করতে এসেছেন। তারা ভালো বিশ্বাসে দেশে এসে প্রয়োজনীয় কাজ করেছেন, নিয়ম মেনে চলেছেন এবং নিজেদের পরিবার ও জীবন এখানে গড়ে তুলেছেন।

তার বক্তব্য, পরে এসে অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসের শর্ত পরিবর্তন করা হলে যারা আগের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।

লেবার এমপি আরও বলেন, কম আয় করা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ করার পরিকল্পনা একটি শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তিনি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা টিইউসির সাধারণ সম্পাদকের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। টিইউসি নেতৃত্ব এই পরিকল্পনাকে ‘মৌলিকভাবে অন্যায্য’ বলে সমালোচনা করেছে বলে তিনি জানান।

পরিচর্যা কর্মীদের ‘কম অবদান রাখা’ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ডানকান-জর্ডান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও পরিচর্যা কর্মীদের নিষ্ঠা ও দক্ষতার বিষয়ে ইতিবাচকভাবে কথা বলেছেন।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ডানকান-জর্ডান জানান, তার বাবাও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং তার পূর্ণকালীন পরিচর্যার প্রয়োজন হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পরিচর্যা কর্মীদের মাধ্যমে তার বাবা সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

ডানকান-জর্ডানের মতে, সামাজিক সেবা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মানুষের প্রিয়জনদের মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তাই এই পেশাকে অবমূল্যায়ন না করে আরও মূল্যায়ন ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অভিবাসী পরিচর্যা কর্মীদের কম বেতনের জন্য তাদের দায়ী না করে বেতন ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, কাজটি কম বেতনের হলেও এটি দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের কাজ। তাই কর্মীদের যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ সীমিত করার পরিবর্তে তাদের কাজের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের নিজস্ব কর্মীশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছেন ডানকান-জর্ডান। তার মতে, তরুণদের কাছে পরিচর্যা পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে এটিকে সম্মানজনক ও যথাযথ বেতনের পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তবে তিনি বলেন, অভিবাসী পরিচর্যা কর্মীদের বিষয়টি শুধু অর্থনীতি বা কর্মী সংকটের হিসাব দিয়ে দেখা উচিত নয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন, তারা পরিবার, সম্পর্ক ও স্থানীয় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছেন এবং সমাজের অংশ হয়ে উঠেছেন।

ডানকান-জর্ডান আরও বলেন, এসব মানুষকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে বারবার অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের মধ্যে ফেলা উচিত নয়। তার ভাষায়, তারা শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য আসা কর্মী নন; তারা ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে ন্যাশনাল কেয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন ডানকান-জর্ডান। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং সেবা গ্রহণের সময় বিনামূল্যে একটি জাতীয় পরিচর্যা ব্যবস্থা সামাজিক সেবা খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামাজিক সেবা খাত নিয়ে ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। ডানকান-জর্ডান বলেন, নিজের বাবার পূর্ণকালীন পরিচর্যার অভিজ্ঞতার কারণে বার্নহ্যাম বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় সামনে নিয়ে এসেছেন।

তবে তার দাবি, সামাজিক সেবা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে পর্যাপ্ত পরিচর্যা কর্মী নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথ কঠিন করার পরিকল্পনা সেই লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ডানকান-জর্ডান বলেন, বর্তমান ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা অর্জিত সেটেলমেন্ট পরিকল্পনার বিরোধিতা শুধু অর্থনীতি ও জনসেবার প্রয়োজনের কারণে নয়; এটি ব্রিটেন কী ধরনের দেশ হতে চায়, সেই প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের তৈরি করা সমস্যা না হলেও বিষয়টি তার নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান পরিকল্পনার ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেষ পর্যন্ত নীল ডানকান-জর্ডান বর্তমান পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার উত্থাপিত পার্লামেন্টারি মোশনে ৮০ এমপির সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি অভিবাসী কর্মীদের বর্তমান স্থায়ী বসবাসের পথ বহাল রাখার দাবির পার্লামেন্টারি সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ নীল ডানকান-জর্ডান এমপির নিবন্ধ ও বক্তব্য

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আট শিশুর ভুয়া পিতা সেজে পাসপোর্ট জালিয়াতিঃ ছয় বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে ১১ বছর বয়সী শিশুরাও সেক্সটর্শনের শিকারঃ তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

বরিস জনসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা