TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নিরাপত্তা উদ্বেগে উত্তাল ব্রিটেনঃ অপরাধে জড়িত বিদেশিদের বহিষ্কারের আহ্বান জোরালো

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা ও অপরাধের প্রেক্ষাপটে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর একটি এলাকায় দুইজন ইহুদি নাগরিকের ওপর হামলার ঘটনায় জননিরাপত্তা, অভিবাসন এবং আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

বিভিন্ন সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, বিদেশি বংশোদ্ভূত বা আশ্রয়প্রার্থী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহে চুরি, যৌন সহিংসতা ও হামলার একাধিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় একজন কিশোরীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগে এক অভিবাসীকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য এক ঘটনায় সমুদ্রসৈকতে এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর একটি এলাকায় ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগেও একটি জরুরি সেবার যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা একটি বিদেশি সংযোগযুক্ত গোষ্ঠী দাবি করেছিল।

এই ধারাবাহিক ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে কঠোর অভিবাসন নীতির দাবি জোরদার হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, যারা সহিংসতা বা গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাদের দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই এবং প্রয়োজনে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করে বহিষ্কার করতে হবে।

তাদের মতে, বর্তমান আইনি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের বহিষ্কার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। কিছু ক্ষেত্রে মানবাধিকার আইনের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বহিষ্কার এড়াতে সক্ষম হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে আইন ও বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতিকে সরলীকরণ করে এবং পুরো অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে দায়ী করার ঝুঁকি তৈরি করে। তাদের মতে, অপরাধের দায় ব্যক্তিগত, এবং তা কোনো গোষ্ঠীর ওপর চাপানো উচিত নয়।
সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আরও কার্যকর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকে বিদেশ থেকে আসা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয় এখন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যুটি আরও গুরুত্ব পাবে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে কঠোর নীতির দাবি, অন্যদিকে মানবাধিকার ও সামাজিক সহাবস্থানের প্রশ্ন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের স্কুলে নতুন নিয়ম, মেয়েদের পিরিয়ড হলে দেখাতে হবে রেড কার্ড

যুক্তরাজ্যে ব্যাংক একাউন্ট নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করতে গিয়েও ব্যর্থ হোম অফিস

ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগ থাকলে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসার আবেদন