15.7 C
London
May 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নেট অভিবাসন কমলেও ব্রিটিশদের ধারণা—অভিবাসন এখনো বাড়ছে

যুক্তরাজ্যে নেট অভিবাসন গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও দেশটির বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনো বিশ্বাস করে অভিবাসন বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বাস্তব পরিসংখ্যান ও জনমতের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বড় ব্যবধান এখন ব্রিটিশ রাজনীতি ও অভিবাসন বিতর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

ব্রিটিশ থিংকট্যাঙ্ক ব্রিটিশ ফিউচার প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিভিন্ন দলের ভোটারদের বড় অংশ মনে করছেন ২০২৫ সালে নেট অভিবাসন বেড়েছে। অথচ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে নেট অভিবাসন যেখানে ছিল ৯ লাখ ৪৪ হাজার, সেখানে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজারে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া নতুন সরকারি পরিসংখ্যানেও আরও কমার ইঙ্গিত রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসন নিয়ে সন্দিহান দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের ৬৭ শতাংশ বিশ্বাস করেন অভিবাসন বেড়েছে। তুলনামূলক উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের মধ্যে এই ধারণা রয়েছে ৩৭ শতাংশের। এছাড়া যারা অভিবাসন কমাতে চান, তাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই মনে করেন এখনো অভিবাসনের সংখ্যা বাড়ছে। মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন আগামী বছরে নেট অভিবাসন আরও কমবে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিবাসন নিয়ে ব্যাপক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন আশ্রয়প্রার্থীরা মোট অভিবাসনের এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী, যদিও প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ। একইভাবে জনগণের একটি বড় অংশ মনে করেন পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলক কম, অথচ বাস্তবে শিক্ষার্থীরাই মোট অভিবাসনের অর্ধেকেরও বেশি অংশ।

সুন্দর কাটওয়ালা বলেন, নেট অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের ধরনই মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তার ভাষায়, “যখন পুরো রাজনৈতিক আলোচনা শুধু অভিবাসন কীভাবে কমানো যায় সেটিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা জন্মায় যে অভিবাসন বাড়ছে।” তিনি মনে করেন, অভিবাসনের সুফল ও সামাজিক চাপ—দুই দিক নিয়েই ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনা প্রয়োজন।

ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যু ক্রমেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে “স্টপ দ্য বোটস” স্লোগান এবং ইংলিশ চ্যানেল হয়ে ছোট নৌকায় অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি জনমতকে আরও প্রভাবিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমনের দৃশ্য এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের খবর মানুষের মনে সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।

গত নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে নেট অভিবাসন ৬৯ শতাংশ কমেছে। তবে তিনি বলেন, অভিবাসনের গতি ও ব্যাপ্তি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিল্প বলেছেন, অভিবাসন কমাতে “আরও অনেক দূর যেতে হবে”।

এদিকে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে “শূন্য নেট অভিবাসন” নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দলটির নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, নেট অভিবাসন কমার পেছনে বড় কারণ ব্রিটিশদের বিদেশে চলে যাওয়া। যদিও গবেষকরা বলছেন, প্রকৃত কারণ হলো বিদেশ থেকে আগমনের সংখ্যা কমে যাওয়া।

বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার পর অভিবাসন ব্রিটিশ জনগণের কাছে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান “মোর ইন কমন”-এর গবেষণা ব্যবস্থাপক সোফি স্টাওয়ার্সের মতে, অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ এখন শুধু সীমান্ত বা সংখ্যা নিয়ে নয়; বরং এটি মানুষের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও নিরাপত্তাবোধের প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পূর্ণ নতুন অভিবাসন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

নেটওয়ার্ক ছাড়াই কল করা যাবে আইফোনে!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ-স্লোগান নিষিদ্ধ করতে চান স্টারমার

যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেটগুলোর মাংস বিক্রিতে নতুন নিয়ম

নিউজ ডেস্ক