29 C
London
June 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

পদত্যাগের দ্বারপ্রান্তে কিয়ার স্টারমারঃ লেবার পার্টিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলীয় ও সরকারি একাধিক সূত্রের দাবি, পার্টির ভেতরে দ্রুত সমর্থন হারানোর প্রেক্ষাপটে স্টারমার পদত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অনেকেই এখন বিশ্বাস করেন যে প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন তার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, স্টারমার এখন মূলত কীভাবে নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বা ‘লেগেসি’ রক্ষা করা যায়, সে বিষয়েই মনোযোগ দিচ্ছেন।

সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের বিজয়ের পর লেবার পার্টির ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেও অবস্থান বদলের প্রবণতা দেখা গেছে, যা স্টারমারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

লেবার পার্টির এক এমপি, যিনি এতদিন স্টারমারের অনুগত হিসেবেই পরিচিত ছিলেন, দাবি করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন এখন কেবল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যক্তিগত পরিচিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তার মতে, স্টারমার খুব শিগগিরই পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, অ্যান্ডি বার্নহাম বর্তমানে প্রায় ৩০০ এমপির সমর্থন পেয়েছেন। তার সমর্থকরা মনে করছেন, সমর্থনের এই ব্যাপকতা তাকে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার পার্টির নতুন নেতা হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে।

এদিকে স্টারমারের প্রতি আস্থা হারানোর বিষয়টি শুধু ব্যাকবেঞ্চ এমপিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার অর্ধেকেরও বেশি সদস্য ব্যক্তিগতভাবে তাকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরকারের এক সূত্র বিবিসিকে বলেছেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় স্টারমার অ্যান্ডি বার্নহামকে পরাজিত করতে পারবেন—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। অন্যদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির চিফ হুইপ জনাথন রেনল্ডসও স্টারমারকে জানিয়েছেন যে এমপিদের মধ্যে সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমার যদি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেন, তাহলে তা লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে দলীয় ঐক্য ও আগামী সাধারণ নির্বাচনের স্বার্থে তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় আলোচিত আরেক নাম ওয়েস স্ট্রিটিং। যদিও তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন তিনি নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত, তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে শেষ পর্যন্ত তিনি অ্যান্ডি বার্নহামকে সমর্থন জানিয়ে সমঝোতার পথে যেতে পারেন। তবে এ ধরনের কোনো চুক্তির কথা উভয় পক্ষই অস্বীকার করেছে।

তবে সব জল্পনা-কল্পনার মধ্যেও ডাউনিং স্ট্রিট আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, স্টারমার এখনও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। শুক্রবার তিনি যে নেতৃত্বের লড়াই মোকাবিলা করার এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন, সেটি বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়।

ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে স্টারমার জনসমক্ষে সক্রিয় থাকবেন এবং অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নীতিগত ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্ত্রী ভিক্টোরিয়া স্টারমারকে নিয়ে চেকার্সে অবস্থান করছেন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন নাকি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে চলমান এই নাটকীয় পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, স্টারমারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত শুধু লেবার পার্টির নয়, বরং ব্রিটেনের জাতীয় রাজনীতির গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

বিবিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

নিউজ ডেস্ক

আশ্রয়প্রার্থী চুক্তি ঘিরে আইনি লড়াইঃ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রুয়ান্ডার অভিযোগ

গর্ভবতী নারীদেরও কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান যুক্তরাজ্যে