TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানের শাহেদ ড্রোন উৎপাদন

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত—ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ কামিকাজি ড্রোন আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত অস্ত্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে নতুন এক অনুসন্ধানে।

লন্ডনভিত্তিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইডার টেকনোলজিসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরান সরাসরি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর না করে চীন, হংকং ও দুবাইভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ড্রোনের ইঞ্জিন, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য ডুয়াল-ইউজ উপাদান সংগ্রহ করছে।

শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ, কুদস এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ ও হেসা ইন্ডাস্ট্রিজের মতো ইরানি প্রতিষ্ঠানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি থামানো যায়নি। এর অন্যতম কারণ, ড্রোনের প্রতিটি উপাদান সরাসরি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

স্ট্রাইডারের অনুসন্ধানে ইরানি প্রতিষ্ঠান পার্স অ্যারো-এর সঙ্গে হংকংভিত্তিক ফক্সটেক হবিই এবং চীনের হুইশিংহাই টেকনোলজি-এর বাণিজ্যিক সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। হুইশিংহাইয়ের প্রকাশিত একটি ড্রোনের ছবিতেও শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

এ ছাড়া হুইশিংহাই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইউনিট-৬৩৬২৯-এর কাছ থেকে প্রশংসাপত্র পেয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে পার্স অ্যারোর দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় কার্যক্রম এবং চীনে পিইআই অ্যারোস্পেস গ্রুপ নামে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া গেছে।

ইরানের কৌশলের মূল শক্তি এখানেই। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ব্যবহার না করে তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তর কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও উপাদান সংগ্রহ করছে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল বিচ্ছিন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে ডুয়াল-ইউজ প্রযুক্তি এই ব্যবস্থাকে আরও জটিল করেছে। বেসামরিক ড্রোনে ব্যবহারের উপযোগী ইঞ্জিন, ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ একইভাবে সামরিক ড্রোনেও ব্যবহার করা যায়। ফলে এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

স্ট্রাইডার বলছে, বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরানের ড্রোন কর্মসূচি শুধু নিজস্ব কারখানার ওপর নির্ভরশীল নয়; এর পেছনে রয়েছে সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক।

ফলে শাহেদ-১৩৬ শুধু ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরও উদাহরণ। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সামরিক শিল্পকে আটকে রাখতে চাইছে, ইরান সেখানে বিকল্প বাণিজ্যিক পথ তৈরি করে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহের সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

আর এ কারণেই ইরানের ড্রোন উৎপাদন বন্ধ করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয় নয়—বরং সেই নিষেধাজ্ঞার আড়ালে থাকা পুরো বৈশ্বিক সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

সূত্রঃ স্ট্রাইডার টেকনোলজিসের নিজস্ব প্রতিবেদন\ দ্য টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

অষ্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দুই দিন ট্রেন চলবে বিনা ভাড়ায়

অর্থের বিনিময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নাগরিকত্বের সুযোগ শেষ

যুদ্ধবিরতি কার্যকর, দলে দলে বাড়ি ফিরছে গাজার মানুষ