পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ইসরায়েল ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামভীতিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে—কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে এমন দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জশ পল তার এক নিবন্ধে দাবি করেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে ইসরায়েল ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ইসলামভীতি উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল সরকার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি জেরুজালেমে একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ওই সম্মেলনে তথাকথিত ‘উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই’কে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে আনা হয়। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠী, অভিবাসন এবং ইসলামি মূল্যবোধকে নিরাপত্তা ও সভ্যতার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে একটি সমন্বিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য হলো মুসলিম অভিবাসন ও ইসলামি মূল্যবোধকে পশ্চিমা সমাজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচারণার মাধ্যমে ইসরায়েল নিজেকে পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা ও উগ্রবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর রক্ষণশীল ও ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
তবে এ ধরনের কৌশল নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সমালোচকরা মনে করেন, ইসলামবিদ্বেষ ও ভয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষা করা কঠিন। বরং এতে পশ্চিমা সমাজে বিভাজন, মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ এবং সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বের সাধারণ জনগণ ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সামাজিক গোষ্ঠীর একটি অংশ ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রচারণার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। গাজায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত থাকায় এই প্রচারণা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ ও বিশ্লেষণ ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ইসলামবিদ্বেষকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দাবিকে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও লেখকের মতামত হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

